ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক ঘটে মাত্র ৪ কারণে: নতুন গবেষণার তথ্য

  • Kamrun Nahar Sumi
  • Update Time : ০৩:২৪:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৪

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় এমন চারটি প্রধান কারণ নিয়ে গবেষণার তথ্য।

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক ঘটে মাত্র ৪ কারণে—এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। গবেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ হৃদরোগের পেছনে কয়েকটি সাধারণ ঝুঁকি কাজ করে। এসব ঝুঁকি আগেভাগে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বড় ধরনের হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

গবেষণার মূল তথ্যগুলো নিচে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো—

গবেষণার মূল তথ্য

  • গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা।
  • এতে প্রায় ৯ মিলিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ান প্রাপ্তবয়স্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
  • অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য তথ্য ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
  • ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৯৯ শতাংশ হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং হার্ট ফেইলারের ক্ষেত্রে অন্তত একটি বড় ঝুঁকি আগে থেকেই উপস্থিত ছিল।
আরও পড়ুন  হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬: কাল থেকে শুরু হচ্ছে দেশের ১৮ জেলায়

হৃদরোগের প্রধান চারটি ঝুঁকি

গবেষণায় চারটি ঝুঁকিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—

  • উচ্চ রক্তচাপ
  • উচ্চ কোলেস্টেরল
  • রক্তে শর্করার উচ্চ মাত্রা
  • ধূমপান

গবেষকদের মতে, এই চারটি কারণই অধিকাংশ হৃদরোগের জন্য দায়ী।

একাধিক ঝুঁকি থাকলে বাড়ে বিপদ

  • গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে একাধিক ঝুঁকি ছিল।
  • অর্থাৎ, একজন মানুষের যদি একসঙ্গে দুই বা তিনটি ঝুঁকি থাকে, তাহলে হৃদরোগের সম্ভাবনা অনেক বেশি হয়ে যায়।
  • তাই চিকিৎসকরা একাধিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি উচ্চ রক্তচাপ

  • গবেষণায় উচ্চ রক্তচাপকে সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রভাবশালী ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
  • অনেক সময় মানুষ সামান্য বেশি রক্তচাপকে গুরুত্ব দেন না।
  • কিন্তু আদর্শ মাত্রার সামান্য উপরে থাকলেও তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
আরও পড়ুন  ফোনের ব্লু লাইট কি সত্যিই আপনার ঘুম নষ্ট করছে? বাস্তব সত্য জানুন

আরও কিছু কারণও ভূমিকা রাখে

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এই চারটি কারণই হৃদরোগের জন্য দায়ী নয়। আরও কিছু বিষয়ও ঝুঁকি বাড়াতে পারে—

  • জেনেটিক বা বংশগত কারণ
  • শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ
  • অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস
  • শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ

তবে গবেষকরা বলেছেন, প্রধান চারটি ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে হৃদরোগের বড় অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হৃদরোগ প্রতিরোধে করণীয়

বিশেষজ্ঞরা হৃদরোগ প্রতিরোধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—

  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা
  • সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করা
  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা
  • ধূমপান সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করা
  • রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তের শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করা
আরও পড়ুন  হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশে | বরিশাল-ময়মনসিংহ-সিলেট আপডেট

আগেভাগে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আগেভাগে সতর্ক হওয়া। অনেক সময় রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল বেড়ে গেলেও তা তেমন কোনো লক্ষণ দেখায় না। কিন্তু নীরবে শরীরে ক্ষতি করতে থাকে।

গবেষণার মূল বার্তা

গবেষকদের মতে, যদি মানুষ জীবনধারা পরিবর্তন করে এবং এই চারটি ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখে, তাহলে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ধূমপান ত্যাগের মতো সাধারণ অভ্যাসই হৃদযন্ত্রকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক ঘটে মাত্র ৪ কারণে: নতুন গবেষণার তথ্য

Update Time : ০৩:২৪:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক ঘটে মাত্র ৪ কারণে—এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। গবেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ হৃদরোগের পেছনে কয়েকটি সাধারণ ঝুঁকি কাজ করে। এসব ঝুঁকি আগেভাগে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বড় ধরনের হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

গবেষণার মূল তথ্যগুলো নিচে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো—

গবেষণার মূল তথ্য

  • গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা।
  • এতে প্রায় ৯ মিলিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ান প্রাপ্তবয়স্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
  • অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্য তথ্য ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
  • ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৯৯ শতাংশ হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং হার্ট ফেইলারের ক্ষেত্রে অন্তত একটি বড় ঝুঁকি আগে থেকেই উপস্থিত ছিল।
আরও পড়ুন  পাকা চুল কি ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে? নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

হৃদরোগের প্রধান চারটি ঝুঁকি

গবেষণায় চারটি ঝুঁকিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—

  • উচ্চ রক্তচাপ
  • উচ্চ কোলেস্টেরল
  • রক্তে শর্করার উচ্চ মাত্রা
  • ধূমপান

গবেষকদের মতে, এই চারটি কারণই অধিকাংশ হৃদরোগের জন্য দায়ী।

একাধিক ঝুঁকি থাকলে বাড়ে বিপদ

  • গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে একাধিক ঝুঁকি ছিল।
  • অর্থাৎ, একজন মানুষের যদি একসঙ্গে দুই বা তিনটি ঝুঁকি থাকে, তাহলে হৃদরোগের সম্ভাবনা অনেক বেশি হয়ে যায়।
  • তাই চিকিৎসকরা একাধিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি উচ্চ রক্তচাপ

  • গবেষণায় উচ্চ রক্তচাপকে সবচেয়ে সাধারণ এবং প্রভাবশালী ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
  • অনেক সময় মানুষ সামান্য বেশি রক্তচাপকে গুরুত্ব দেন না।
  • কিন্তু আদর্শ মাত্রার সামান্য উপরে থাকলেও তা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
আরও পড়ুন  কফি কি কোলেস্টেরল বাড়ায়? সত্যিটা জানুন সহজভাবে

আরও কিছু কারণও ভূমিকা রাখে

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এই চারটি কারণই হৃদরোগের জন্য দায়ী নয়। আরও কিছু বিষয়ও ঝুঁকি বাড়াতে পারে—

  • জেনেটিক বা বংশগত কারণ
  • শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ
  • অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস
  • শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ

তবে গবেষকরা বলেছেন, প্রধান চারটি ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে হৃদরোগের বড় অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হৃদরোগ প্রতিরোধে করণীয়

বিশেষজ্ঞরা হৃদরোগ প্রতিরোধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—

  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা
  • সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করা
  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা
  • ধূমপান সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করা
  • রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তের শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করা
আরও পড়ুন  হাসছেন ঠিকই, কিন্তু ভিতরে চাপ? চিনে নিন সাইলেন্ট স্ট্রেস

আগেভাগে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আগেভাগে সতর্ক হওয়া। অনেক সময় রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল বেড়ে গেলেও তা তেমন কোনো লক্ষণ দেখায় না। কিন্তু নীরবে শরীরে ক্ষতি করতে থাকে।

গবেষণার মূল বার্তা

গবেষকদের মতে, যদি মানুষ জীবনধারা পরিবর্তন করে এবং এই চারটি ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখে, তাহলে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ধূমপান ত্যাগের মতো সাধারণ অভ্যাসই হৃদযন্ত্রকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।