ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি Logo ঢাকা আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার, গুরুত্ব পাবে শিশু কল্যাণ ও শিক্ষা Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৮ নিহত, দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত Logo কক্সবাজারে বৃষ্টির ধাক্কা, কম দামে বিপাকে ৪২ হাজার লবণচাষি Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo শিশুর শরীরে কালো দাগ কেন হয়? অ্যাকাথোসিস নিগ্রিক্যানস ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি জানুন Logo আয়োকিগাহারা ফরেস্ট: জাপানের রহস্যময় ‘সুইসাইড ফরেস্ট’ এর অজানা সত্য Logo মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি Logo ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ইঙ্গিত Logo প্রথম সপ্তাহেই ঝড়, উত্তর আমেরিকায় বাড়ছে ‘দম’ এর দাপট

ফোনের ব্লু লাইট কি সত্যিই আপনার ঘুম নষ্ট করছে? বাস্তব সত্য জানুন

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ০১:০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৩০

ফোনের নীল আলো ঘুমের প্রস্তুতিতে বাধা দিতে পারে।

ফোনের ব্লু লাইট কি সত্যিই আপনার ঘুম নষ্ট করছে? গত এক দশক ধরে এই প্রশ্নটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। অনেকেই মনে করেন ব্লু লাইট এবং ঘুমের সমস্যার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন।

ব্লু লাইট নিয়ে আতঙ্ক শুরু হয় ২০১৪ সালের একটি গবেষণা থেকে। সেখানে দেখা যায়, যারা ঘুমানোর আগে iPad ব্যবহার করেছিল তারা দেরিতে ঘুমিয়েছে এবং তাদের শরীরে melatonin hormone কম তৈরি হয়েছে। এরপর থেকেই মানুষ ভাবতে শুরু করে ব্লু লাইটই ঘুমের প্রধান শত্রু।

তবে বিশেষজ্ঞরা পরে জানান, এই গবেষণার ফলাফল বাস্তব জীবনের সাথে পুরোপুরি মেলে না। কারণ ল্যাবের পরিবেশ এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবন এক নয়। তাই এই ফলাফলকে সরাসরি সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা ঠিক নয়।

বাস্তবে ফোনের ব্লু লাইট খুব বেশি শক্তিশালী নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টা মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার করলেও যত ব্লু লাইট পাওয়া যায়, তা মাত্র এক মিনিট সূর্যের আলোতে থাকার সমান। তাই শুধুমাত্র mobile light effect on sleep খুব বড় ফ্যাক্টর নয়।

এখানে আসল বিষয় হলো আমাদের lifestyle। আমরা দিনের বেলা পর্যাপ্ত sunlight exposure পাই না। সারাদিন ঘরের ভিতরে থেকে screen time বাড়ানোর ফলে শরীরের circadian rhythm ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।

walking in morning sunlight for healthy
সকালে সূর্যের আলোতে হাঁটা এবং বাইরে সময় কাটানো শরীরের ঘুমের ঘড়িকে ঠিক রাখে।

দিনের আলো আমাদের শরীরকে জানায় কখন সক্রিয় থাকতে হবে এবং কখন বিশ্রাম নিতে হবে। কিন্তু যখন আমরা সেই আলো থেকে দূরে থাকি, তখন শরীর বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এর প্রভাব সরাসরি sleep quality-এর উপর পড়ে।

রাতে আবার আমরা উজ্জ্বল LED light ব্যবহার করি। এতে শরীর বুঝতে পারে না যে এখন বিশ্রামের সময়। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং sleep hygiene নষ্ট হয়ে যায়।

আরেকটি বড় কারণ হলো bedtime routine-এর অভাব। অনেকেই ঘুমানোর আগে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন বা ভিডিও দেখেন। এই ধরনের কনটেন্ট আমাদের মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে, যা ঘুমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

অনেকেই night mode বা blue light filter ব্যবহার করেন। কিন্তু গবেষণা বলছে, এগুলোর প্রভাব খুব সীমিত। হয়তো কয়েক মিনিট আগে ঘুম আসতে পারে, কিন্তু এটি বড় কোনো পরিবর্তন আনে না।

তবে এই ফিচারগুলোর একটি ভালো দিক আছে। যখন স্ক্রিনের রঙ পরিবর্তন হয়, তখন এটি আমাদের মস্তিষ্ককে একটি সংকেত দেয় যে এখন ঘুমানোর সময়। এটি একটি অভ্যাসগত প্রস্তুতি তৈরি করে।

একজন সাংবাদিক নিজের উপর পরীক্ষা চালিয়ে ব্লু লাইট সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। তিনি বিশেষ চশমা ব্যবহার করেন, ঘর অন্ধকার রাখেন এবং মোমবাতির আলো ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে তার ঘুমের সময় খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।

cozy bedroom with dim warm lighting for good sleep (1)
শান্ত, কম আলোযুক্ত ঘরে ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিলে ভালো ঘুম আসে।

তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। তার ঘুমানোর সময় এবং জাগার সময় আরও নিয়মিত হয়ে যায়। যা ভালো sleep quality-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ঘুমের জন্য দিনের আলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সকালে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাইরে থাকা উচিত। এতে শরীরের circadian rhythm ঠিকভাবে কাজ করে।

দিনের বেলা উজ্জ্বল আলোতে থাকা এবং রাতে ধীরে ধীরে আলো কমিয়ে দেওয়া খুব কার্যকর। এতে শরীর সহজে বুঝতে পারে কখন বিশ্রামের সময় এসেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘুমানোর আগে স্ক্রিনে কী করছেন। উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট এড়িয়ে চলা উচিত। এটি মস্তিষ্ককে শান্ত হতে সাহায্য করে এবং দ্রুত ঘুম আনতে সাহায্য করে।

সবশেষে বলা যায়, ব্লু লাইট এবং ঘুমের সম্পর্ক থাকলেও এটি মূল সমস্যা নয়। আসল সমস্যা হলো আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস, screen time এবং অনিয়মিত জীবনযাপন। ভালো ঘুমের জন্য সঠিক রুটিনই সবচেয়ে বড় সমাধান।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি

ফোনের ব্লু লাইট কি সত্যিই আপনার ঘুম নষ্ট করছে? বাস্তব সত্য জানুন

Update Time : ০১:০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

ফোনের ব্লু লাইট কি সত্যিই আপনার ঘুম নষ্ট করছে? গত এক দশক ধরে এই প্রশ্নটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। অনেকেই মনে করেন ব্লু লাইট এবং ঘুমের সমস্যার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা একটু ভিন্ন।

ব্লু লাইট নিয়ে আতঙ্ক শুরু হয় ২০১৪ সালের একটি গবেষণা থেকে। সেখানে দেখা যায়, যারা ঘুমানোর আগে iPad ব্যবহার করেছিল তারা দেরিতে ঘুমিয়েছে এবং তাদের শরীরে melatonin hormone কম তৈরি হয়েছে। এরপর থেকেই মানুষ ভাবতে শুরু করে ব্লু লাইটই ঘুমের প্রধান শত্রু।

তবে বিশেষজ্ঞরা পরে জানান, এই গবেষণার ফলাফল বাস্তব জীবনের সাথে পুরোপুরি মেলে না। কারণ ল্যাবের পরিবেশ এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবন এক নয়। তাই এই ফলাফলকে সরাসরি সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা ঠিক নয়।

বাস্তবে ফোনের ব্লু লাইট খুব বেশি শক্তিশালী নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টা মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার করলেও যত ব্লু লাইট পাওয়া যায়, তা মাত্র এক মিনিট সূর্যের আলোতে থাকার সমান। তাই শুধুমাত্র mobile light effect on sleep খুব বড় ফ্যাক্টর নয়।

এখানে আসল বিষয় হলো আমাদের lifestyle। আমরা দিনের বেলা পর্যাপ্ত sunlight exposure পাই না। সারাদিন ঘরের ভিতরে থেকে screen time বাড়ানোর ফলে শরীরের circadian rhythm ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।

walking in morning sunlight for healthy
সকালে সূর্যের আলোতে হাঁটা এবং বাইরে সময় কাটানো শরীরের ঘুমের ঘড়িকে ঠিক রাখে।

দিনের আলো আমাদের শরীরকে জানায় কখন সক্রিয় থাকতে হবে এবং কখন বিশ্রাম নিতে হবে। কিন্তু যখন আমরা সেই আলো থেকে দূরে থাকি, তখন শরীর বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এর প্রভাব সরাসরি sleep quality-এর উপর পড়ে।

রাতে আবার আমরা উজ্জ্বল LED light ব্যবহার করি। এতে শরীর বুঝতে পারে না যে এখন বিশ্রামের সময়। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং sleep hygiene নষ্ট হয়ে যায়।

আরেকটি বড় কারণ হলো bedtime routine-এর অভাব। অনেকেই ঘুমানোর আগে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন বা ভিডিও দেখেন। এই ধরনের কনটেন্ট আমাদের মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে, যা ঘুমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

অনেকেই night mode বা blue light filter ব্যবহার করেন। কিন্তু গবেষণা বলছে, এগুলোর প্রভাব খুব সীমিত। হয়তো কয়েক মিনিট আগে ঘুম আসতে পারে, কিন্তু এটি বড় কোনো পরিবর্তন আনে না।

তবে এই ফিচারগুলোর একটি ভালো দিক আছে। যখন স্ক্রিনের রঙ পরিবর্তন হয়, তখন এটি আমাদের মস্তিষ্ককে একটি সংকেত দেয় যে এখন ঘুমানোর সময়। এটি একটি অভ্যাসগত প্রস্তুতি তৈরি করে।

একজন সাংবাদিক নিজের উপর পরীক্ষা চালিয়ে ব্লু লাইট সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। তিনি বিশেষ চশমা ব্যবহার করেন, ঘর অন্ধকার রাখেন এবং মোমবাতির আলো ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে তার ঘুমের সময় খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।

cozy bedroom with dim warm lighting for good sleep (1)
শান্ত, কম আলোযুক্ত ঘরে ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিলে ভালো ঘুম আসে।

তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। তার ঘুমানোর সময় এবং জাগার সময় আরও নিয়মিত হয়ে যায়। যা ভালো sleep quality-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ঘুমের জন্য দিনের আলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সকালে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাইরে থাকা উচিত। এতে শরীরের circadian rhythm ঠিকভাবে কাজ করে।

দিনের বেলা উজ্জ্বল আলোতে থাকা এবং রাতে ধীরে ধীরে আলো কমিয়ে দেওয়া খুব কার্যকর। এতে শরীর সহজে বুঝতে পারে কখন বিশ্রামের সময় এসেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘুমানোর আগে স্ক্রিনে কী করছেন। উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট এড়িয়ে চলা উচিত। এটি মস্তিষ্ককে শান্ত হতে সাহায্য করে এবং দ্রুত ঘুম আনতে সাহায্য করে।

সবশেষে বলা যায়, ব্লু লাইট এবং ঘুমের সম্পর্ক থাকলেও এটি মূল সমস্যা নয়। আসল সমস্যা হলো আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস, screen time এবং অনিয়মিত জীবনযাপন। ভালো ঘুমের জন্য সঠিক রুটিনই সবচেয়ে বড় সমাধান।