ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিদেশে পড়াশোনায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, কেন বাড়ছে খরচ? Logo যশোর বিমানবন্দরে কেন একের পর এক ফ্লাইট বন্ধ হচ্ছে? Logo আদনান আল রাজীবের প্রথম সিনেমা, নায়ক সিয়াম Logo এ আর রহমানের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বাংলাদেশের দুই শিল্পী Logo ঢাকায় কনসার্টে সঞ্জয়-প্রীতম, ফাইনালের আগে বড় চমক Logo একজন পুরুষের যে গুণে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হন জেনিফার লোপেজ Logo সালমান খান মামলা: বিস্ফোরক টিজারে বড় চমক, কেন গেলেন আদালতে? Logo ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী তালিকা প্রকাশ, সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী কারা! Logo মিরসরাইয়ে চীনের ৩৬৬ কোটি টাকার বস্ত্র কারখানা, হবে ৫৮০ জনের কর্মসংস্থান Logo চাকরি–সংস্কৃতি বদলাচ্ছে: কর্মীর আস্থা ও দক্ষতায় গড়বে সফল প্রতিষ্ঠান

বিজু উৎসবে রাঙামাটিতে ঘরে ঘরে পাজন রান্না ও আপ্যায়ন

রাঙামাটিতে বিজু উৎসবকে ঘিরে ঘরে ঘরে পাজন রান্না ও আপ্যায়ন চলছে।ছবি- সংগ্রহীত

পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব ‘বিজু’কে ঘিরে এখন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে Rangamati জেলায়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষ করে Chakma people সম্প্রদায়ের কাছে এই উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজু উৎসব সাধারণত তিন দিনব্যাপী উদযাপিত হয়—ফুল বিজু, মূল বিজু এবং গজ্যাপজ্যা। এর মধ্যে চৈত্র মাসের শেষ দিনে পালিত ‘মূল বিজু’তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পাজন’।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে শুরু হয় পাজন রান্নার প্রস্তুতি। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি কেটে পরিষ্কার করে রান্না করেন। এরপর দিনভর চলে অতিথি আপ্যায়ন এবং একে অপরের বাড়িতে বেড়ানোর রীতি।

পাজন মূলত বহু ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ খাবার। সাধারণত ৩০টির বেশি সবজি ব্যবহার করা হয়, আবার কোথাও কোথাও ৫০ থেকে ১০০ প্রকার উপাদান দিয়েও এটি রান্না করা হয়। এতে কাঁঠাল, কলা, মিষ্টি কুমড়া, মূলা, বেতডগা ও নানা ধরনের শুটকি মাছ ব্যবহৃত হয়।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, বছরের এই বিশেষ দিনে পাজন খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং নানা রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই এটি শুধু একটি খাবার নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের অংশ।

উৎসব উপলক্ষে মানুষজন একে অপরের বাড়িতে গিয়ে পাজনসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করেন। অনেকেই অন্তত কয়েকটি বাড়িতে ঘুরে বেড়ানোর চেষ্টা করেন, যা এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।

এছাড়া পাজনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করা হয় এবং অতিথিদের আপ্যায়নে পরিবেশন করা হয়। পাহাড়ি ও বাঙালি—সবাই মিলেই এই উৎসব উদযাপন করে, যা পারস্পরিক সম্প্রীতির এক সুন্দর দৃষ্টান্ত।

উৎসবের শেষ দিনে বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব রীতিতে আয়োজন করে নানা অনুষ্ঠান। বিশেষ করে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশে পড়াশোনায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, কেন বাড়ছে খরচ?

বিজু উৎসবে রাঙামাটিতে ঘরে ঘরে পাজন রান্না ও আপ্যায়ন

Update Time : ১০:৫১:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব ‘বিজু’কে ঘিরে এখন উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে Rangamati জেলায়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষ করে Chakma people সম্প্রদায়ের কাছে এই উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজু উৎসব সাধারণত তিন দিনব্যাপী উদযাপিত হয়—ফুল বিজু, মূল বিজু এবং গজ্যাপজ্যা। এর মধ্যে চৈত্র মাসের শেষ দিনে পালিত ‘মূল বিজু’তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পাজন’।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে শুরু হয় পাজন রান্নার প্রস্তুতি। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি কেটে পরিষ্কার করে রান্না করেন। এরপর দিনভর চলে অতিথি আপ্যায়ন এবং একে অপরের বাড়িতে বেড়ানোর রীতি।

আরও পড়ুন  জরায়ুমুখ ক্যানসার ঠেকাতে কেন জরুরি HPV টিকা?

পাজন মূলত বহু ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ খাবার। সাধারণত ৩০টির বেশি সবজি ব্যবহার করা হয়, আবার কোথাও কোথাও ৫০ থেকে ১০০ প্রকার উপাদান দিয়েও এটি রান্না করা হয়। এতে কাঁঠাল, কলা, মিষ্টি কুমড়া, মূলা, বেতডগা ও নানা ধরনের শুটকি মাছ ব্যবহৃত হয়।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, বছরের এই বিশেষ দিনে পাজন খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং নানা রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই এটি শুধু একটি খাবার নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের অংশ।

আরও পড়ুন  ইন্টার্নশিপে সফল হতে যে ৮টি বিষয় জানা প্রয়োজন

উৎসব উপলক্ষে মানুষজন একে অপরের বাড়িতে গিয়ে পাজনসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করেন। অনেকেই অন্তত কয়েকটি বাড়িতে ঘুরে বেড়ানোর চেষ্টা করেন, যা এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।

এছাড়া পাজনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করা হয় এবং অতিথিদের আপ্যায়নে পরিবেশন করা হয়। পাহাড়ি ও বাঙালি—সবাই মিলেই এই উৎসব উদযাপন করে, যা পারস্পরিক সম্প্রীতির এক সুন্দর দৃষ্টান্ত।

আরও পড়ুন  সকালের এই ছোট অভ্যাসেই মিলতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা

উৎসবের শেষ দিনে বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব রীতিতে আয়োজন করে নানা অনুষ্ঠান। বিশেষ করে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।