উত্তর আমেরিকার দর্শকদের মন জয় করে নিচ্ছে ‘দম’। প্রথম সপ্তাহেই দারুণ সাড়া পাওয়ার পর দ্বিতীয় সপ্তাহে বাড়ানো হয়েছে ছবিটির প্রদর্শনের পরিসর। ধীরে ধীরে প্রবাসী বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে নতুন উন্মাদনা।
প্রথম সপ্তাহেই ইতিবাচক সাড়া
প্রথম সপ্তাহের সাফল্যের পর উত্তর আমেরিকায় বাড়ছে ‘দম’ সিনেমার প্রদর্শন
‘দম’ সিনেমার পোস্টার। নির্মাতার ফেসবুক থেকে

রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৭টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল। শুরুতে সীমিত আকারে মুক্তি পেলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। ছবির গল্প, অভিনয় ও নির্মাণশৈলী দর্শকদের আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে শুরু করেন। যার ফলে সিনেমাটির প্রতি আগ্রহ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ইতিবাচক সাড়াই নির্মাতাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। ফলে খুব দ্রুতই বড় পরিসরে মুক্তির পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
দ্বিতীয় সপ্তাহে বড় বিস্তার
প্রথম সপ্তাহের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘দম’ সিনেমার মুক্তির পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মোট ৫৮টি প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই ৫০টির বেশি হলে ছবিটি চলবে, যা বাংলা সিনেমার জন্য বড় অর্জন। কানাডার ৮টি প্রেক্ষাগৃহেও একযোগে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন উত্তর আমেরিকার পরিবেশক রাজ হামিদ। তাঁর মতে, দর্শকদের ভালোবাসা এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই এই বিস্তারের পেছনের প্রধান কারণ। তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের আগ্রহ দেখেই দ্রুত হল সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও বড় পরিসরে দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে যাচ্ছে ‘দম’।

নতুন প্রেক্ষাগৃহে যুক্ত হচ্ছে ‘দম’
দ্বিতীয় সপ্তাহে শুধু হল সংখ্যা বাড়ানোই নয়, নতুন নতুন প্রেক্ষাগৃহও যুক্ত হচ্ছে প্রদর্শনের তালিকায়। নিউইয়র্কের কিউ গার্ডেনসে দ্বিতীয় সপ্তাহেও সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। এর পাশাপাশি লং আইল্যান্ডের শোকেস ফার্মিংডেল প্রেক্ষাগৃহ নতুন করে যুক্ত হয়েছে। এই প্রেক্ষাগৃহে প্রতিদিন দুটি করে শো নির্ধারণ করা হয়েছে একটি বিকেল ৫টায় এবং আরেকটি রাত ৮টায়। ফলে দর্শকদের জন্য সময় বেছে সিনেমা দেখার সুযোগ আরও সহজ হয়েছে। আগে যারা দূরের কারণে দেখতে পারেননি, তারাও এখন সহজেই হলে গিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করতে পারবেন। এই নতুন সংযোজনগুলো সিনেমাটির জনপ্রিয়তাকেই আরও প্রমাণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাড়ছে জনপ্রিয়তা
১৭ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময়টিকে ‘দম’-এর জন্য বিশেষ সপ্তাহ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে। টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ডালাস, মায়ামি, বোস্টনসহ একাধিক শহরে চলছে প্রদর্শনের প্রস্তুতি। পাশাপাশি সান ফ্রান্সিসকো, ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া, মিশিগান ও আটলান্টাতেও যুক্ত হয়েছে নতুন শো। ফলে দেশজুড়ে প্রবাসী দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটি দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। নির্মাতারা দর্শকদের হলে গিয়ে সিনেমা দেখার জন্য উৎসাহিত করছেন। তাঁদের মতে, বড় পরিসরে বাংলা সিনেমাকে এগিয়ে নিতে হলে দর্শকদের সরাসরি সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
দর্শকদের ভালোবাসায় এগিয়ে যাচ্ছে
সিনেমাটির এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন দর্শকরাই—এমনটাই মনে করছেন প্রযোজক রাজ হামিদ ও নওশাবা রশীদ। তাঁরা দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, এই ভালোবাসাই তাঁদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে। প্রথম সপ্তাহেই যে সাড়া পাওয়া গেছে, তা তাঁদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। এই ভালোবাসার কারণেই দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও বড় পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁরা বিশ্বাস করেন, উত্তর আমেরিকায় বাংলা সিনেমার নতুন একটি দিগন্ত তৈরি করতে পারে ‘দম’। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাংলা সিনেমা মুক্তির পথ তৈরি করবে এই সাফল্য। সব মিলিয়ে দর্শকরাই এই যাত্রার সবচেয়ে বড় শক্তি।
দেশে-বিদেশে একসঙ্গে সাফল্য
শুধু বিদেশেই নয়, দেশেও সমানভাবে সফলতার মুখ দেখছে ‘দম’। বর্তমানে দেশে চতুর্থ সপ্তাহেও প্রেক্ষাগৃহে চলছে সিনেমাটি। আফরান নিশো ও পূজা চেরী অভিনীত এই ছবিটি শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছে। সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত হওয়ায় গল্পটিও দর্শকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। এতে আরও অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও ডলি জহুর। শক্তিশালী অভিনয় ও গল্পের কারণে দেশ-বিদেশ—দুই জায়গাতেই প্রশংসা পাচ্ছে ছবিটি। সব মিলিয়ে ‘দম’ এখন একটি আলোচিত ও সফল প্রজেক্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।





























