রিজওয়ান সাজান আজ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সফল ভারতীয় ব্যবসায়ী। দুবাইভিত্তিক নির্মাণসামগ্রী ও রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ড্যানিউব গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তবে তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দারিদ্র্য, সংগ্রাম এবং অদম্য পরিশ্রমের দীর্ঘ গল্প।
মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার এলাকার একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া রিজওয়ান সাজানের শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে। স্কুলজীবনে সহপাঠীরা ক্যানটিনে খাবার খেলেও তিনি অনেক সময় তা কিনতে পারতেন না। সেই অভাববোধই একসময় তাঁকে নিজের আয় করার স্বপ্ন দেখায়।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাবার কাছ থেকে এক হাজার রুপি ধার নিয়ে তিনি ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করেন। স্কুলের বই কিনে মৌসুমি বিক্রির মাধ্যমে তাঁর প্রথম ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়। প্রথমবার লাভ করেন ২০০ রুপি। সেই অর্থ নিজের জন্য খরচ না করে বন্ধুদের সমুচা খাওয়ান তিনি। এরপর রাখি, আতশবাজি ও অন্যান্য মৌসুমি পণ্য বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে থাকেন।
১৮ বছর বয়সে বাবার মৃত্যু তাঁর জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কাজের সন্ধানে কুয়েতে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে চাকরি করলেও ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ তাঁর জীবনের নতুন মোড় তৈরি করে। যুদ্ধের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের বার্তা পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি নতুন আয়ের পথ খুঁজে পান।
পরবর্তীতে দুবাইয়ে চলে গিয়ে মাত্র এক লাখ দিরহাম সঞ্চয় নিয়ে নতুন ব্যবসা শুরু করেন রিজওয়ান সাজান। সীমিত মূলধন, ছোট অফিস এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন ড্যানিউব গ্রুপ। বর্তমানে নির্মাণসামগ্রী, হোম ইন্টেরিয়র এবং রিয়েল এস্টেট খাতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে কোম্পানিটি।
বর্তমানে রিজওয়ান সাজানের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি রুপি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুবাইয়ে তাঁর ৪০ হাজার বর্গফুটের বিলাসবহুল প্রাসাদও বেশ আলোচিত। সেখানে রয়েছে ব্যক্তিগত সিনেমা হল, সুইমিংপুল, স্পা, গেমিং জোন এবং আধুনিক নানা সুযোগ-সুবিধা।
তবে বিলাসবহুল জীবনের মধ্যেও নিজের অতীত ভুলে যাননি রিজওয়ান সাজান। তাঁর বিশ্বাস, সম্পদ হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু অভিজ্ঞতা, সাহস এবং উদ্যোগ কখনো হারায় না। এ কারণেই তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, সুযোগ পেলে শূন্য থেকেও আবার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।দারিদ্র্য থেকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো রিজওয়ান সাজানের গল্প আজ বিশ্বের লাখো তরুণ উদ্যোক্তার জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।




























