তেলের দাম কমেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির খবরে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে কয়েক সপ্তাহের সামরিক উত্তেজনার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমে আসে। এর আগে সংঘাতের উত্তেজনায় তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানে হামলার পর নতুন করে কোনো বিমান অভিযান চালানো হয়নি। অন্যদিকে ইরানও কয়েক দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন হামলা চালায়নি।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলের উত্তেজনা সরাসরি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম কমে আসা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কারণ জ্বালানির দাম কমলে পরিবহন খরচ ও পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমার সম্ভাবনা থাকে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
তবে বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এখনই তেলের দাম আরও বড় আকারে কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলের উত্তেজনাও জ্বালানি বাজারে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিতেও পড়েছে। পেট্রলের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সুদের হার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে তেলের দাম কমেছে যুদ্ধবিরতির আশাবাদে, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে তেলের বাজারের গতি।


























