শরীয়তপুরে ঈদ উদযাপন করছেন প্রায় ৫০ গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে জেলার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরা এবারও বাংলাদেশের একদিন আগে ঈদুল আজহা পালন করছেন। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এই ধর্মীয় রীতি এখনও ধরে রেখেছেন স্থানীয়রা।
শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছরও ঈদ উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের জামাতে অংশ নিতে সকাল থেকেই মুসল্লিদের ভিড় জমবে দরবার শরীফ এলাকায়।
সুরেশ্বর দরবার শরীফ সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ায় দরবারের অনুসারীরাও একই দিনে ঈদ পালন করছেন। শুধু ঈদ নয়, বেশিরভাগ ধর্মীয় উৎসবও তারা মধ্যপ্রাচ্যের সময় অনুসরণ করে পালন করেন।
সুরেশ্বর দরবার শরীফের গদীনশীন পীর সৈয়দ বেলাল নূরী জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি বহু বছরের ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং এলাকার মানুষ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তা অনুসরণ করেন।
ঈদের নামাজের জন্য দরবার শরীফ মাঠে দুটি জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম জামাত সকাল ৯টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। নামাজ শেষে মুসল্লিদের জন্য খিচুড়ি, সেমাইসহ বিভিন্ন মিষ্টিজাতীয় খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত সুরেশ্বর দরবার শরীফ স্থানীয়ভাবে একটি পরিচিত ধর্মীয় কেন্দ্র। প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে এখানে বিভিন্ন এলাকার মানুষ একত্রিত হন। শরীয়তপুরে ঈদ উদযাপনের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন স্থানীয়দের কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্য হিসেবেও বিবেচিত হয়।

























