১০ গোলের এক অবিশ্বাস্য লড়াই শেষে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়ে বড় ব্যবধান গড়ে তোলা ইংলিশরা দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মুখেও ভেঙে পড়েনি। বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে ছিল ইংল্যান্ড। তৃতীয় মিনিটে মাঝমাঠে বল দখল করে দ্রুত এগিয়ে যান ডেক্লান রাইস। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট ফ্রান্সের জালে জড়ালে শুরুতেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে দলটি।
১২ মিনিটে কায়ো সাকার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও আক্রমণের ধার কমেনি। ১৮ মিনিটে রাইসের বাড়ানো বল থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরা কনসা। এরপরও একের পর এক আক্রমণে ফরাসি রক্ষণকে চাপে রাখে ইংল্যান্ড এবং প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই বড় ব্যবধান গড়ে তোলে।
৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে প্রথম গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছয় মিনিট পর এমবাপ্পের পাস কাজে লাগিয়ে বারকোলা গোল করলে ব্যবধান কমে আসে এবং ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ফ্রান্সের চাপ আরও বাড়ে ৬৬ মিনিটে। আবারও ওলিসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার দশম গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ডও নিজের করে নেন ফরাসি এই তারকা।
ফ্রান্স যখন ম্যাচে পুরোপুরি ফিরে আসার চেষ্টা করছে, তখন ৮৪ মিনিটে ইংল্যান্ডের জন্য আসে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। জেড স্পেনসকে বক্সের মধ্যে ফাউল করায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। এই গোলই ইংল্যান্ডকে আবারও নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যায়।
যোগ করা সময়ে উসমান ডেম্বেলে একটি গোল শোধ করে ফ্রান্সকে কিছুটা আশা দেখালেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচের শেষ আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে গোল করেন জুড বেলিংহাম। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার সপ্তম গোল এবং সেই গোলেই ৬-৪ ব্যবধান নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
চার গোলে পিছিয়ে থেকেও ফ্রান্স যেভাবে লড়াইয়ে ফিরেছিল, তা ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলেছে। তবে শেষ পর্যন্ত সাকার হ্যাটট্রিক, রাইসের অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং বেলিংহামের শেষ মুহূর্তের গোলে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর লড়াইগুলোর একটি হিসেবেই মনে রাখবেন ফুটবলপ্রেমীরা।


























