যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর আগেই বড় ধরনের নিরাপত্তা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। নিজেদের প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুশীলন সেশনে নামার আগেই দলটির গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। এই ঘটনায় ইংল্যান্ড শিবিরে উদ্বেগ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে তারকা ফুটবলারদের কাস্টমাইজড ম্যাচ বুট, ফিফার অফিসিয়াল ম্যাচ বল এবং অনুশীলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের ঠিক আগে এমন ঘটনা দলটির প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, টমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড দল ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে একটি কন্ডিশনিং ক্যাম্প সম্পন্ন করে। সেখানে কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ার মধ্যে অনুশীলন করে খেলোয়াড়রা নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করেছেন।
ক্যাম্প শেষ হওয়ার পর ফুটবলারদের ব্যক্তিগত সরঞ্জাম ও দলের অন্যান্য মালামাল মিসৌরির সোপ সকার ভিলেজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছিল। পরিবহনের এই সময়েই চুরির ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
বিশ্বকাপের মতো আসরে অনেক ফুটবলার নিজেদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা বুট ব্যবহার করেন। এসব বুটে খেলোয়াড়দের নাম, নম্বর এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন কাস্টমাইজেশন করা থাকে। ফলে এগুলো হারিয়ে যাওয়া শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, মানসিকভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে কানসাস সিটি পুলিশ বিভাগ। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
পুলিশ ইতোমধ্যে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে বলে নিশ্চিত করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং চুরি হওয়া সরঞ্জাম উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, চুরির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্রও জড়িত থাকতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বক্তব্যে পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, তদন্তের স্বার্থে দুই ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার কারণে ইংল্যান্ড দলের কোচিং স্টাফ এবং টিম ম্যানেজমেন্ট বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম হারিয়ে যাওয়ায় অনুশীলন পরিকল্পনা এবং ম্যাচ প্রস্তুতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হতে পারে বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় প্রতিটি অনুশীলন সেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট সরঞ্জাম এবং প্রস্তুতির পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হয়। তাই এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা দলের মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে।
আজ শনিবার বিকেলে কানসাসে প্রথমবারের মতো অনুশীলনে নামার কথা রয়েছে ইংল্যান্ড দলের। হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহামসহ দলের তারকা খেলোয়াড়রা সেখানে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করবেন।
ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখন বিকল্প সরঞ্জাম দ্রুত সংগ্রহের চেষ্টা করছে। যাতে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের বড় ব্যাঘাত না ঘটে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া যায়।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিরাপত্তা নিয়ে এমন প্রশ্ন ওঠায় আয়োজকদের ওপরও চাপ বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের আরও সতর্ক হতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে, যা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপে পরিণত করেছে।
ইংল্যান্ড রয়েছে ‘এল’ গ্রুপে। ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি এবারের আসরেও অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। টমাস টুখেলের নেতৃত্বে দলটি শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে।
গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী বুধবার ডালাসে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ক্রোয়েশিয়া। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচকে সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করছিল দলটি।
তবে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে চুরির এই ঘটনা ইংল্যান্ড শিবিরে অস্বস্তি তৈরি করেছে। যদিও দলটির কর্মকর্তারা আশা করছেন, দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে খেলোয়াড়রা আবারও পুরোপুরি ফুটবলে মনোযোগ দিতে পারবেন।
এখন সবার নজর পুলিশের তদন্ত ও চুরি হওয়া সরঞ্জাম উদ্ধারের দিকে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ মঞ্চে ইংল্যান্ড কতটা সফলভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারে, সেটিও দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।























