বিশ্বকাপ ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবার টুর্নামেন্টের পরিধি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়। যদিও দল বাড়ায় গ্রুপপর্বের প্রতিযোগিতা কিছুটা ভিন্ন হবে, তবুও কয়েকটি ম্যাচ ইতোমধ্যে সমর্থকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সবসময়ই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। স্বাগতিক মেক্সিকো নিজেদের সমর্থকদের সামনে জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চাইবে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাও প্রথম ম্যাচেই ইতিবাচক বার্তা দিতে প্রস্তুত। ফলে উদ্বোধনী লড়াইটি হতে পারে বেশ জমজমাট।
যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে
নিজেদের মাঠে খেলায় বাড়তি সুবিধা পাবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে সহজ কোনো ম্যাচের আশা করছে না তারা। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের লড়াইগুলো ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, যা ম্যাচটির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ব্রাজিল বনাম মরক্কো
গ্রুপপর্বের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ এটি। আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিনিধি মরক্কো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। অন্যদিকে ব্রাজিল নতুন পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বকাপ মিশনে নামছে। দুই দলের মুখোমুখি লড়াই তাই বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করবে।
নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান
চমক দেখানোর ক্ষমতা জাপানের আছে, সেটা আগের বিশ্বকাপেই প্রমাণ হয়েছে। নেদারল্যান্ডস কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও এশিয়ার দলটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ম্যাচটি হতে পারে গ্রুপপর্বের অন্যতম কৌশলগত লড়াই।
বেলজিয়াম বনাম মিসর
দুই দলের লক্ষ্যই হবে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করা। বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ স্কোয়াডের বিপক্ষে মিসরের আক্রমণভাগ কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটাই হবে ম্যাচের অন্যতম আলোচনার বিষয়।
ফ্রান্স বনাম সেনেগাল
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই দুই দলের লড়াইয়ের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। অতীতের স্মৃতি নতুন করে ফিরিয়ে আনতে পারে এই ম্যাচ। বর্তমান ফ্রান্স শক্তিশালী হলেও সেনেগালও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার সামর্থ্য রাখে।
ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া
ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের এই লড়াইকে অনেকেই গ্রুপপর্বের অন্যতম বড় ম্যাচ হিসেবে দেখছেন। বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে দুই দলই সমানভাবে সমীহ আদায় করে নিয়েছে।
ফ্রান্স বনাম নরওয়ে
কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডের সম্ভাব্য দ্বৈরথ এই ম্যাচকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে। আক্রমণাত্মক ফুটবলের কারণে ম্যাচটি দর্শকদের জন্য দারুণ উপভোগ্য হতে পারে।
স্পেন বনাম উরুগুয়ে
দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি লড়াই মানেই বাড়তি আগ্রহ। গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে দুই দলই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
পর্তুগাল বনাম কলম্বিয়া
গ্রুপপর্বের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটিও বিশেষ আকর্ষণের। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী দল কলম্বিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের তারকাবহুল স্কোয়াডকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে ম্যাচটি ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।
বিশ্বকাপ ম্যাচের এই লড়াইগুলো শুধু গ্রুপপর্বের ফলাফলই নির্ধারণ করবে না, বরং টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্বের সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুরু থেকেই ফুটবল বিশ্বের চোখ থাকবে এই ম্যাচগুলোর দিকে।
























