২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর। চোট থেকে দ্রুত সেরে উঠছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। সর্বশেষ মেডিকেল আপডেট অনুযায়ী, মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচেই তার মাঠে নামার সম্ভাবনা এখন বেশ জোরালো।
বিশ্বকাপের আগে নেইমারের চোট নিয়ে ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ডান পায়ের কাফে চোট পাওয়ার পর তাকে নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, টুর্নামেন্টের শুরুতেই হয়তো তাকে পাওয়া যাবে না।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমতে শুরু করেছে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত অগ্রগতি দেখিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ফুটবলার। ফলে তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও আগের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
ব্রাজিলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, নেইমারের শারীরিক অবস্থার উন্নতি চিকিৎসকদের আশাবাদী করে তুলেছে। যে সময়সূচি ধরে তার পুনর্বাসন পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার আগেই তিনি ফিটনেস ফিরে পাচ্ছেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে মাঠে ফিরবেন নেইমার। ব্রাজিল দলের মেডিকেল বিভাগও সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক উন্নতি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
এখন ব্রাজিল টিম ম্যানেজমেন্ট প্রথম ম্যাচে তাকে ব্যবহার করার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। যদিও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবুও পরিস্থিতি দ্রুত ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।
সোমবার করা এমআরআই পরীক্ষার ফলাফলও ব্রাজিল শিবিরকে স্বস্তি দিয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে চোটের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতির তথ্য পাওয়া গেছে। এতে করে নেইমারের প্রত্যাবর্তনের আশা আরও বেড়েছে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছে, পুনর্বাসন কার্যক্রমে সন্তোষজনক অগ্রগতি রয়েছে। চিকিৎসকদের নির্দেশনা মেনে নিয়মিত অনুশীলন ও ফিটনেস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন নেইমার। তার শারীরিক অবস্থার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
যদিও তিনি এখনো দলের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার অনুশীলনে অংশ নেননি। তবে ব্যক্তিগতভাবে ফিটনেস ট্রেনিং এবং জিম সেশনের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন। প্রতিদিনই তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ব্রাজিল কোচ Carlo Ancelotti নেইমারের ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজনকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবদিক বিবেচনা করা হবে।
আনচেলত্তির মতে, নেইমারের সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে একজন খেলোয়াড়কে তাড়াহুড়া করে মাঠে নামানো ঠিক হবে না। তাই চিকিৎসক দলের পরামর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে ব্রাজিল কোচ এটাও স্বীকার করেছেন যে পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক। প্রথম ম্যাচ না হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। আর যদি বর্তমান উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে উদ্বোধনী ম্যাচেও দেখা যেতে পারে নেইমারকে।
দীর্ঘ সময় পর জাতীয় দলে ফিরতে যাওয়া নেইমার ব্রাজিলের জন্য বিশাল এক শক্তির নাম। তার অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা এবং গোল করার দক্ষতা দলের আক্রমণভাগকে অন্য মাত্রা দেয়। বড় ম্যাচে তার উপস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্যও বাড়তি চাপ তৈরি করে।
ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নেইমারের অর্জন ইতোমধ্যেই অনন্য। জাতীয় দলের জার্সিতে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি দলকে সাফল্য এনে দিয়েছেন। ফলে বিশ্বকাপেও তাকে ঘিরে প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এবার মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শক্তিশালী স্কোয়াড এবং অভিজ্ঞ কোচিং স্টাফের পাশাপাশি নেইমারের প্রত্যাবর্তন দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে। সমর্থকরাও তার মাঠে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
রোববার MetLife Stadium-এ মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই নেইমারকে দেখা যাবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ম্যাচটির উত্তেজনা এবং আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ব্রাজিল তাদের সবচেয়ে বড় তারকাকে পেতে পারে। আর সেটি হলে শিরোপার দৌড়ে দলটি নিঃসন্দেহে আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। এখন অপেক্ষা শুধু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং নেইমারের মাঠে ফেরার মুহূর্তের।























