বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হলেই অনলাইনে খেলা দেখার আগ্রহ বেড়ে যায়। কিন্তু ফ্রি স্ট্রিমিং লিংকের প্রলোভনে পা দিয়ে অনেকেই সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকার মোহাম্মদপুরের এক বেসরকারি চাকরিজীবী বিশ্বকাপের খেলা দেখার জন্য একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের প্যাকেজ কিনেছিলেন। কিন্তু লগইন সমস্যার কারণে তিনি খেলা দেখতে না পেরে ফেসবুকে বিকল্প লিংক খুঁজতে শুরু করেন।
ফেসবুক থেকে পাওয়া একটি লিংক অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ করা বন্ধ করে দেয়। পরে আরেকটি লিংকে ক্লিক করলে তাকে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়। অ্যাপটি ব্যবহার করার সময় উন্নত ভিডিও কোয়ালিটি নির্বাচন করতেই সেটি তাকে একটি অনলাইন জুয়ার সাইটে নিয়ে যায়।
সন্দেহ হওয়ায় তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন লিংকে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড, ব্যাংকিং তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপ, ক্রিকেট বিশ্বকাপ কিংবা বড় কোনো ক্রীড়া আসর শুরু হলেই প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফ্রি লাইভ স্ট্রিমিংয়ের লোভ দেখিয়ে তারা ভুয়া ওয়েবসাইট, নকল অ্যাপ এবং বিভিন্ন ফিশিং লিংক ছড়িয়ে দেয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা বলেন, এসব সাইট ও অ্যাপ এমনভাবে তৈরি করা হয় যে সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে আসল-নকল বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিল রেখে ডোমেইন ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লিংকের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার কিংবা ট্রোজান ব্যবহারকারীর ডিভাইসে প্রবেশ করতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ব্যাংকিং জালিয়াতি এবং অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের মাধ্যমে এমন প্রতারণামূলক লিংক ছড়ানো হয়। অনেক ব্যবহারকারী খেলার লোভে সেগুলোতে ক্লিক করে প্রতারণার ফাঁদে পড়েন।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় মাসে তারা ২৭৮টি সন্দেহজনক ওয়েবসাইট শনাক্ত করেছে। এসব সাইট বন্ধের জন্য বিটিআরসির কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে এই ধরনের অপরাধে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদে খেলা দেখতে হলে সবসময় অনুমোদিত সম্প্রচারকারী বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা উচিত। অচেনা লিংক, থার্ড-পার্টি অ্যাপ বা ফ্রি স্ট্রিমিংয়ের প্রলোভন এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও পরামর্শ দিয়েছেন, সন্দেহজনক কোনো লিংক বা অ্যাপে প্রবেশের আগে সেটি যাচাই করা জরুরি। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
























