ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বৈলতলী’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন Logo চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস রওশনহাট’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন Logo বাংলাদেশের এলএনজি বাজারে এবার রাশিয়ার আগ্রহ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন Logo তিন মাসেও বোর্ড নেই, কমছে আমানত, ইসলামী ব্যাংকের সামনে বড় সংকট Logo জবিতে সংঘর্ষ ও রিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ ছাত্র ফ্রন্টের Logo ট্রাম্প-শির বৈঠকে বাণিজ্য, এআই ও বিরল খনিজ নিয়ে আলোচনা Logo ঢাবিতে অপ্রতিম-আজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল Logo চন্দনাইশে বসতভিটার বিরোধ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ Logo চন্দনাইশে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদকসেবী গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড Logo ওয়ান হেলথ: পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য সমন্বয়ে মন্ত্রীর বার্তা

ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল এখন কোথায়?

ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বলটি এখনো তিউনিসিয়ার সাবেক রেফারি Ali Bin Nasser-এর কাছেই রয়েছে। ২০২২ সালে বলটি নিলামে তোলা হলেও প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় এটি বিক্রি হয়নি। ফলে প্রায় চার দশক পরও ঐতিহাসিক এই স্মারকটি তার ব্যক্তিগত সংগ্রহেই সংরক্ষিত আছে।

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত রয়েছে, যেগুলো সময়ের সঙ্গে আরও বেশি কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি Diego Maradona-র ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল তেমনই একটি ঘটনা। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা সেই গোল আজও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ঘটনাটি ঘটেছিল মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত Estadio Azteca স্টেডিয়ামে। কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না, বরং রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক নানা আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে ছিল। তাই ম্যাচটির গুরুত্ব ছিল অন্য যেকোনো সাধারণ ম্যাচের চেয়ে অনেক বেশি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে একটি লম্বা বল ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সে ভেসে আসে। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক বলটি ক্লিয়ার করার জন্য এগিয়ে এলেও ম্যারাডোনা লাফিয়ে উঠে হাতে স্পর্শ করে বল জালে পাঠিয়ে দেন। ঘটনাটি রেফারির চোখ এড়িয়ে যায় এবং গোলের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানান। তারা দাবি করেন, ম্যারাডোনা স্পষ্টভাবে হাত ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা গোল বাতিল করেননি। ফলে গোলটি বৈধ হিসেবে গণ্য হয় এবং ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

মজার বিষয় হলো, একই ম্যাচে কয়েক মিনিট পর ম্যারাডোনা এমন একটি গোল করেন যা আজও বিশ্বের সেরা গোলগুলোর তালিকায় শীর্ষে স্থান পায়। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে তিনি যে গোলটি করেছিলেন, সেটিই পরে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত হয়।

দুটি ভিন্ন কারণে সেই ম্যাচটি ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। একদিকে ছিল বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, অন্যদিকে ছিল অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের প্রদর্শনী। ফুটবল ইতিহাসে একই ম্যাচে এমন দুই বিপরীতধর্মী মুহূর্ত খুব কমই দেখা গেছে।

ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতে নেয়। সেই জয় তাদের সেমিফাইনালে পৌঁছে দেয় এবং পরে দলটি বিশ্বকাপের শিরোপাও জিতে নেয়। ফলে ম্যারাডোনার ওই গোল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোল হিসেবেও বিবেচিত হয়।

গোলটি নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক চললেও ম্যারাডোনা কখনো পুরোপুরি অস্বীকার করেননি যে তিনি হাত ব্যবহার করেছিলেন। বরং পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি মজার ছলে বলেছিলেন, এটি ছিল “কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা এবং কিছুটা ঈশ্বরের হাত”।

তার এই মন্তব্যই ‘হ্যান্ড অব গড’ নামটির জন্ম দেয়। এরপর থেকে ফুটবল বিশ্বে এই নামটি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে মূল ঘটনার চেয়েও অনেক সময় নামটিই বেশি পরিচিত হয়ে যায়। আজও ফুটবল ইতিহাসের আলোচনায় এলে ‘হ্যান্ড অব গড’ শব্দগুচ্ছটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

এত ঐতিহাসিক একটি মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বলটির মূল্যও স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে বলটি নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন ম্যাচটির দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারি আলি বিন নাসের। তিনি এটিকে ব্যক্তিগত সংগ্রহের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন।

বহু বছর ধরে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকা বলটি ২০২২ সালে আবারও আলোচনায় আসে। আলি বিন নাসের সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি বলটি নিলামে তুলবেন। তার এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্ত ও সংগ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে।

নিলাম প্রতিষ্ঠান বলটির জন্য বিপুল আগ্রহের কথা জানায়। অনেকেই মনে করেছিলেন, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান স্মারকগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। কারণ বলটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিখ্যাত গোলের স্মৃতি।

নিলাম চলাকালে বলটির দাম প্রায় ২০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত ওঠে। তবে বিক্রেতার নির্ধারিত সংরক্ষিত মূল্য বা রিজার্ভ প্রাইস পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এটি বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ফলে নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হলেও নতুন কোনো মালিকের হাতে বলটি যায়নি।

এর ফলে ঐতিহাসিক এই স্মারকটি এখনো আলি বিন নাসেরের কাছেই রয়েছে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হওয়া সত্ত্বেও এটি কোনো জাদুঘর বা ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের হাতে যায়নি। বর্তমানে এর অবস্থান সম্পর্কে জানা যায় যে এটি সাবেক রেফারির ব্যক্তিগত সংগ্রহেই সুরক্ষিতভাবে রাখা আছে।

নিলামের আগে আলি বিন নাসের বলেছিলেন, তিনি আশা করেন ভবিষ্যতে যদি বলটির নতুন মালিক হয়, তাহলে সেটি জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। তার মতে, এমন ঐতিহাসিক স্মারক শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রহে সীমাবদ্ধ না থেকে ফুটবলপ্রেমীদের দেখার সুযোগ থাকা উচিত।

ফুটবল স্মারকের বাজারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্য অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের ব্যবহৃত জার্সি, বুট, মেডেল কিংবা ম্যাচ বল সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তাই ‘হ্যান্ড অব গড’ বলটির প্রতিও বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়।

একই বছরে ম্যারাডোনার পরা জার্সিও বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসে। ১৯৮৬ সালের সেই ম্যাচে তার ব্যবহৃত জার্সিটি নিলামে প্রায় ৭১ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়। এটি ফুটবল স্মারকের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়া সামগ্রীর একটি।

জার্সির বিপুল মূল্য অনেককে অবাক করলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর পেছনে রয়েছে ম্যারাডোনার জনপ্রিয়তা এবং ম্যাচটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব। একই কারণে ‘হ্যান্ড অব গড’ বলটির সম্ভাব্য মূল্যও ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়।

ম্যারাডোনা ২০২০ সালে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তার স্মৃতি এখনো অমলিন। ফুটবলপ্রেমীরা তাকে শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং খেলার ইতিহাস বদলে দেওয়া এক অসাধারণ চরিত্র হিসেবেও মনে রাখেন। তার জীবনের অনেক মুহূর্তের মধ্যে ‘হ্যান্ড অব গড’ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বর্তমানে সেই ঐতিহাসিক গোলের বলটি কোনো জাদুঘরে নয়, বরং এখনো সাবেক রেফারি আলি বিন নাসেরের কাছেই রয়েছে। ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক হিসেবে এটি ভবিষ্যতেও ভক্তদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে। আর যতদিন ফুটবল থাকবে, ততদিন ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং সেই বলের গল্পও সমানভাবে আলোচিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বৈলতলী’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল এখন কোথায়?

Update Time : ১১:৫৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বলটি এখনো তিউনিসিয়ার সাবেক রেফারি Ali Bin Nasser-এর কাছেই রয়েছে। ২০২২ সালে বলটি নিলামে তোলা হলেও প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় এটি বিক্রি হয়নি। ফলে প্রায় চার দশক পরও ঐতিহাসিক এই স্মারকটি তার ব্যক্তিগত সংগ্রহেই সংরক্ষিত আছে।

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত রয়েছে, যেগুলো সময়ের সঙ্গে আরও বেশি কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি Diego Maradona-র ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল তেমনই একটি ঘটনা। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা সেই গোল আজও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ঘটনাটি ঘটেছিল মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত Estadio Azteca স্টেডিয়ামে। কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না, বরং রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক নানা আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে ছিল। তাই ম্যাচটির গুরুত্ব ছিল অন্য যেকোনো সাধারণ ম্যাচের চেয়ে অনেক বেশি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে একটি লম্বা বল ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সে ভেসে আসে। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক বলটি ক্লিয়ার করার জন্য এগিয়ে এলেও ম্যারাডোনা লাফিয়ে উঠে হাতে স্পর্শ করে বল জালে পাঠিয়ে দেন। ঘটনাটি রেফারির চোখ এড়িয়ে যায় এবং গোলের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানান। তারা দাবি করেন, ম্যারাডোনা স্পষ্টভাবে হাত ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা গোল বাতিল করেননি। ফলে গোলটি বৈধ হিসেবে গণ্য হয় এবং ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

মজার বিষয় হলো, একই ম্যাচে কয়েক মিনিট পর ম্যারাডোনা এমন একটি গোল করেন যা আজও বিশ্বের সেরা গোলগুলোর তালিকায় শীর্ষে স্থান পায়। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে তিনি যে গোলটি করেছিলেন, সেটিই পরে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত হয়।

আরও পড়ুন  মেসিকে রাজকীয় বিদায় দেবে বার্সেলোনা, অপেক্ষা ক্যাম্প ন্যুর

দুটি ভিন্ন কারণে সেই ম্যাচটি ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। একদিকে ছিল বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, অন্যদিকে ছিল অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের প্রদর্শনী। ফুটবল ইতিহাসে একই ম্যাচে এমন দুই বিপরীতধর্মী মুহূর্ত খুব কমই দেখা গেছে।

ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতে নেয়। সেই জয় তাদের সেমিফাইনালে পৌঁছে দেয় এবং পরে দলটি বিশ্বকাপের শিরোপাও জিতে নেয়। ফলে ম্যারাডোনার ওই গোল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোল হিসেবেও বিবেচিত হয়।

গোলটি নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক চললেও ম্যারাডোনা কখনো পুরোপুরি অস্বীকার করেননি যে তিনি হাত ব্যবহার করেছিলেন। বরং পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি মজার ছলে বলেছিলেন, এটি ছিল “কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা এবং কিছুটা ঈশ্বরের হাত”।

তার এই মন্তব্যই ‘হ্যান্ড অব গড’ নামটির জন্ম দেয়। এরপর থেকে ফুটবল বিশ্বে এই নামটি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে মূল ঘটনার চেয়েও অনেক সময় নামটিই বেশি পরিচিত হয়ে যায়। আজও ফুটবল ইতিহাসের আলোচনায় এলে ‘হ্যান্ড অব গড’ শব্দগুচ্ছটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

এত ঐতিহাসিক একটি মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বলটির মূল্যও স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে বলটি নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন ম্যাচটির দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারি আলি বিন নাসের। তিনি এটিকে ব্যক্তিগত সংগ্রহের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন।

আরও পড়ুন  ক্লপের প্রথম দল ঘোষণায় চমক, জার্মানির দুই স্কোয়াড

বহু বছর ধরে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকা বলটি ২০২২ সালে আবারও আলোচনায় আসে। আলি বিন নাসের সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি বলটি নিলামে তুলবেন। তার এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্ত ও সংগ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে।

নিলাম প্রতিষ্ঠান বলটির জন্য বিপুল আগ্রহের কথা জানায়। অনেকেই মনে করেছিলেন, এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান স্মারকগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। কারণ বলটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিখ্যাত গোলের স্মৃতি।

নিলাম চলাকালে বলটির দাম প্রায় ২০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত ওঠে। তবে বিক্রেতার নির্ধারিত সংরক্ষিত মূল্য বা রিজার্ভ প্রাইস পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এটি বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ফলে নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হলেও নতুন কোনো মালিকের হাতে বলটি যায়নি।

এর ফলে ঐতিহাসিক এই স্মারকটি এখনো আলি বিন নাসেরের কাছেই রয়েছে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হওয়া সত্ত্বেও এটি কোনো জাদুঘর বা ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের হাতে যায়নি। বর্তমানে এর অবস্থান সম্পর্কে জানা যায় যে এটি সাবেক রেফারির ব্যক্তিগত সংগ্রহেই সুরক্ষিতভাবে রাখা আছে।

নিলামের আগে আলি বিন নাসের বলেছিলেন, তিনি আশা করেন ভবিষ্যতে যদি বলটির নতুন মালিক হয়, তাহলে সেটি জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। তার মতে, এমন ঐতিহাসিক স্মারক শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রহে সীমাবদ্ধ না থেকে ফুটবলপ্রেমীদের দেখার সুযোগ থাকা উচিত।

আরও পড়ুন  ব্রেট লি–প্রীতি জিনতার সম্পর্কের সত্য, অবশেষে মুখ খুললেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা

ফুটবল স্মারকের বাজারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্য অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের ব্যবহৃত জার্সি, বুট, মেডেল কিংবা ম্যাচ বল সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তাই ‘হ্যান্ড অব গড’ বলটির প্রতিও বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়।

একই বছরে ম্যারাডোনার পরা জার্সিও বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসে। ১৯৮৬ সালের সেই ম্যাচে তার ব্যবহৃত জার্সিটি নিলামে প্রায় ৭১ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়। এটি ফুটবল স্মারকের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়া সামগ্রীর একটি।

জার্সির বিপুল মূল্য অনেককে অবাক করলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর পেছনে রয়েছে ম্যারাডোনার জনপ্রিয়তা এবং ম্যাচটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব। একই কারণে ‘হ্যান্ড অব গড’ বলটির সম্ভাব্য মূল্যও ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়।

ম্যারাডোনা ২০২০ সালে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তার স্মৃতি এখনো অমলিন। ফুটবলপ্রেমীরা তাকে শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং খেলার ইতিহাস বদলে দেওয়া এক অসাধারণ চরিত্র হিসেবেও মনে রাখেন। তার জীবনের অনেক মুহূর্তের মধ্যে ‘হ্যান্ড অব গড’ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বর্তমানে সেই ঐতিহাসিক গোলের বলটি কোনো জাদুঘরে নয়, বরং এখনো সাবেক রেফারি আলি বিন নাসেরের কাছেই রয়েছে। ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক হিসেবে এটি ভবিষ্যতেও ভক্তদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে। আর যতদিন ফুটবল থাকবে, ততদিন ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং সেই বলের গল্পও সমানভাবে আলোচিত হবে।