অবশেষে লিওনেল মেসিকে রাজকীয় বিদায় দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বার্সেলোনা। ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে ব্যবহার উপযোগী হলেই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দিতে চায় কাতালান ক্লাবটি। বার্সেলোনা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০২১ সালের গ্রীষ্মে বার্সেলোনার সঙ্গে দীর্ঘ ২১ বছরের সম্পর্কের ইতি টানেন মেসি। ক্লাবটিতে থেকে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল তাঁর। এমনকি বিনা পারিশ্রমিকেও খেলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। তবে লা লিগার আর্থিক নিয়মের কারণে শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব হয়নি।
বার্সেলোনা ছাড়ার পর মেসি যোগ দেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি)। তবে ক্যাম্প ন্যুতে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের সামনে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছিল তাঁর বার্সেলোনা অধ্যায়। ফলে ক্লাব ও সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একটি অপূর্ণতার অনুভূতি ছিল।
এবার সেই আক্ষেপ দূর করতে চায় বার্সেলোনা। ক্লাব সদস্যদের এক বিশেষ সভায় লাপোর্তা জানান, ক্যাম্প ন্যুর সংস্কার শেষ হওয়ার পর মেসিকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই আয়োজনের ক্ষেত্রে মেসির নিজের ইচ্ছাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বার্সেলোনা সভাপতি।
লাপোর্তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন রূপে সাজানো ক্যাম্প ন্যুতে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার দর্শকের সামনে মেসিকে সম্মান জানানো হতে পারে। পুরো সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরই আয়োজনটি করার কথা ভাবছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠান ২০২৮ সালের দিকে হতে পারে।
মুন্দো দেপোর্তিভোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসির প্রতি ক্লাবের গভীর শ্রদ্ধা থেকেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বার্সেলোনার ইতিহাসে তাঁর অবদান অনন্য। ক্লাবটির হয়ে অসংখ্য শিরোপা ও ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি তিনি হয়ে উঠেছেন সমর্থকদের অন্যতম প্রিয় মুখ।
সভায় লাপোর্তা মেসির প্রয়াত বাবা জর্জ মেসির প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। মেসির ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পেছনে তাঁর বাবার ভূমিকার প্রশংসা করেন বার্সা সভাপতি। একই সঙ্গে মেসি পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে এখনো এই সংবর্ধনার নির্দিষ্ট তারিখ বা পূর্ণাঙ্গ আয়োজনের রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি। ক্যাম্প ন্যুর সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মেসিও সম্মতি দিলে নতুন ক্যাম্প ন্যুতেই হতে পারে বার্সেলোনার ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠান।


























