রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আজ রোববার রাতে রংপুর থেকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার ঢাকা সিআইডি কার্যালয়ে তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার রাতের যেকোনো সময় দুই আসামিকে ঢাকায় নেওয়া হবে। পরে সিআইডি কার্যালয়ে তাঁদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহত চারজনেরও প্রয়োজনীয় নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব আলামতের সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনাস্থলে আসামিদের উপস্থিতির কোনো জৈবিক প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কোনো আলামতের সঙ্গে তাঁদের জৈবিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হবে। তদন্তের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।
গত ২১ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তাঁদের দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। চারজনকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর নগরের কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। পরে তদন্তে গণপতি চক্রবর্তীর প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর দুই আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে কারাগারের ভেতর থেকে তাঁদের মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করা হয়। তবে ওই পরীক্ষায় তাঁদের শরীরে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
চার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও পুলিশের বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রও (আসক) ঘটনাটির বিভিন্ন দিক স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। বিশেষ করে হত্যার উদ্দেশ্য, সময়রেখা ও হত্যার পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসার দাবি উঠেছে।
এ ছাড়া রাত ২টা ৪০ মিনিটের অস্বাভাবিক ফোনকল এবং হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে অবস্থান, খাবার খাওয়া ও গোসল করার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এসব দাবির সঙ্গে ফরেনসিক ও ডিজিটাল আলামতের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি বলে জানিয়েছে আসক।
মামলাটি প্রথমে রংপুর নগরের কোতোয়ালি থানা-পুলিশ তদন্ত করছিল। পরে তদন্তের দায়িত্ব রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনাস্থলের আলামত ও আসামিদের মধ্যে কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে তদন্তকারীদের।



























