ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি দাপ্তরিক সব কাজ পরিচালনা করবেন বঙ্গভবন থেকে। তবে ব্যক্তিগত অবস্থান করবেন জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্পিকারের সরকারি বাসভবনে। এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা মহলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
শনিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য অফিস পরিচালিত হবে বঙ্গভবন থেকে। তবে স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই তিনি অবস্থান করবেন, যাতে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক সমন্বয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহজভাবে নিশ্চিত করা যায়।
এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই স্পিকারের সরকারি বাসভবন এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত বিশেষ নিরাপত্তা প্রোটোকল কার্যকর করেছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধানের বিধান অনুসারে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দাপ্তরিক কাজের জন্য বঙ্গভবন এবং অবস্থানের জন্য স্পিকারের সরকারি বাসভবন ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সংসদীয় দায়িত্ব ও রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় করাও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদের এই নতুন দায়িত্ব কীভাবে পরিচালিত হয়, সেদিকে এখন সবার নজর রয়েছে।




























