ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানিদের ত্বকের যত্নে জনপ্রিয় এই সুলভ উপকরণটি চিনে নিন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৫৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০১

জাপানিদের উজ্জ্বল ত্বকের গোপন রহস্য। ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ, কোমল ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য অনেকেই দামি প্রসাধনী ব্যবহার করেন। তবে ত্বকের যত্নে সব সময় ব্যয়বহুল উপকরণ প্রয়োজন হয় না। রান্নাঘরের খুব পরিচিত একটি উপাদান রাইস ওয়াটার, অর্থাৎ চাল ধোয়া বা ভেজানো পানি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এশীয় সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে জাপানি স্কিন কেয়ারে চাল ও চালের নির্যাসের ব্যবহার বেশ পরিচিত। সহজলভ্য এই উপাদানটি ত্বক পরিচর্যার রুটিনে একটি সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে।

চাল থেকে পাওয়া পানিতে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ যৌগ ও কিছু পুষ্টি উপাদান থাকে, যা ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। রাইস ওয়াটার ত্বককে সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন স্কিন কেয়ার পণ্যে চালের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। তবে রাইস ওয়াটার সব ধরনের ত্বকের সমস্যা দূর করে বা ব্রণ সারিয়ে দেয়—এমন নিশ্চিত দাবি করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

ঘরে রাইস ওয়াটার ব্যবহার করতে চাইলে এটি খুব সহজেই তৈরি করা যায়। চাল ভালোভাবে ধুয়ে সেই পানি সংগ্রহ করে নিতে পারেন। আবার কিছুক্ষণ পরিষ্কার পানিতে চাল ভিজিয়ে রেখেও সেই পানি ব্যবহার করা যায়। ত্বকে ব্যবহারের আগে পরিষ্কার পাত্রে সংরক্ষণ করা এবং দীর্ঘদিন রেখে না দেওয়াই ভালো। বিশেষ করে ঘরে তৈরি পানিতে সংরক্ষণকারী উপাদান থাকে না, তাই নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়াও নিরাপদ।

টোনার হিসেবে: রাইস ওয়াটার পাতলা করে পরিষ্কার মুখে তুলা বা হাতের সাহায্যে আলতোভাবে লাগানো যেতে পারে। কেউ কেউ এতে গোলাপজল মেশান, তবে সংবেদনশীল ত্বক হলে অতিরিক্ত উপাদান যোগ না করাই ভালো। ব্যবহারের পর ত্বকে অস্বস্তি, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া হলে সঙ্গে সঙ্গে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত স্কিন কেয়ারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে নিজের ত্বকের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা জরুরি।

ক্লিনজার হিসেবে: পরিষ্কার ও ঠান্ডা রাইস ওয়াটার মুখে লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। তবে এটি মেকআপ, অতিরিক্ত তেল বা সানস্ক্রিন পরিষ্কার করার পূর্ণ বিকল্প নয়। সেক্ষেত্রে ত্বকের উপযোগী ক্লিনজার ব্যবহার করাই ভালো। রাইস ওয়াটার ব্যবহারের পর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

সিরাম হিসেবে: রাইস ওয়াটার দিয়ে স্কিন কেয়ারের আরেকটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো এটিকে অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ব্যবহার করা। তবে ঘরে তৈরি মিশ্রণে ভিটামিন ই ক্যাপসুলসহ একাধিক উপাদান যোগ করার আগে সতর্ক থাকা উচিত, কারণ সবার ত্বক একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, রাইস ওয়াটারকে ত্বকের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে না দেখে একটি সাধারণ পরিচর্যার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা। ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী ব্রণ, র‍্যাশ, চুলকানি বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে ঘরোয়া উপায়ের বদলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানিদের ত্বকের যত্নে জনপ্রিয় এই সুলভ উপকরণটি চিনে নিন

Update Time : ০৯:৫৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুস্থ, কোমল ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য অনেকেই দামি প্রসাধনী ব্যবহার করেন। তবে ত্বকের যত্নে সব সময় ব্যয়বহুল উপকরণ প্রয়োজন হয় না। রান্নাঘরের খুব পরিচিত একটি উপাদান রাইস ওয়াটার, অর্থাৎ চাল ধোয়া বা ভেজানো পানি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এশীয় সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে জাপানি স্কিন কেয়ারে চাল ও চালের নির্যাসের ব্যবহার বেশ পরিচিত। সহজলভ্য এই উপাদানটি ত্বক পরিচর্যার রুটিনে একটি সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে।

চাল থেকে পাওয়া পানিতে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ যৌগ ও কিছু পুষ্টি উপাদান থাকে, যা ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। রাইস ওয়াটার ত্বককে সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন স্কিন কেয়ার পণ্যে চালের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। তবে রাইস ওয়াটার সব ধরনের ত্বকের সমস্যা দূর করে বা ব্রণ সারিয়ে দেয়—এমন নিশ্চিত দাবি করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

আরও পড়ুন  তীব্র গরমে ত্বকের সুরক্ষায় স্কিন ক্যাফের নতুন ক্যাম্পেইন: সানস্ক্রিন কিনে ৫ হাজার টাকার ভাউচার জেতার সুযোগ

ঘরে রাইস ওয়াটার ব্যবহার করতে চাইলে এটি খুব সহজেই তৈরি করা যায়। চাল ভালোভাবে ধুয়ে সেই পানি সংগ্রহ করে নিতে পারেন। আবার কিছুক্ষণ পরিষ্কার পানিতে চাল ভিজিয়ে রেখেও সেই পানি ব্যবহার করা যায়। ত্বকে ব্যবহারের আগে পরিষ্কার পাত্রে সংরক্ষণ করা এবং দীর্ঘদিন রেখে না দেওয়াই ভালো। বিশেষ করে ঘরে তৈরি পানিতে সংরক্ষণকারী উপাদান থাকে না, তাই নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়াও নিরাপদ।

আরও পড়ুন  গরমে ত্বক নিস্তেজ? তরমুজেই পাবেন সহজ সমাধান

টোনার হিসেবে: রাইস ওয়াটার পাতলা করে পরিষ্কার মুখে তুলা বা হাতের সাহায্যে আলতোভাবে লাগানো যেতে পারে। কেউ কেউ এতে গোলাপজল মেশান, তবে সংবেদনশীল ত্বক হলে অতিরিক্ত উপাদান যোগ না করাই ভালো। ব্যবহারের পর ত্বকে অস্বস্তি, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া হলে সঙ্গে সঙ্গে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত স্কিন কেয়ারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে নিজের ত্বকের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা জরুরি।

ক্লিনজার হিসেবে: পরিষ্কার ও ঠান্ডা রাইস ওয়াটার মুখে লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। তবে এটি মেকআপ, অতিরিক্ত তেল বা সানস্ক্রিন পরিষ্কার করার পূর্ণ বিকল্প নয়। সেক্ষেত্রে ত্বকের উপযোগী ক্লিনজার ব্যবহার করাই ভালো। রাইস ওয়াটার ব্যবহারের পর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

আরও পড়ুন  বর্ষায় ছত্রাক সংক্রমণ এড়াতে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

সিরাম হিসেবে: রাইস ওয়াটার দিয়ে স্কিন কেয়ারের আরেকটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো এটিকে অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ব্যবহার করা। তবে ঘরে তৈরি মিশ্রণে ভিটামিন ই ক্যাপসুলসহ একাধিক উপাদান যোগ করার আগে সতর্ক থাকা উচিত, কারণ সবার ত্বক একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, রাইস ওয়াটারকে ত্বকের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে না দেখে একটি সাধারণ পরিচর্যার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা। ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী ব্রণ, র‍্যাশ, চুলকানি বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে ঘরোয়া উপায়ের বদলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।