দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজারের বেশি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামের উপসর্গে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে চারজনই ঢাকার এবং একজন ময়মনসিংহের।
এই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৯২ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭২ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ৬৭৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৫ শিশু। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭১ জনে।
এ ছাড়া চলতি বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৯০৭ শিশুর।
হাম ও উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৬ হাজার ৮৭৮ শিশু। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৩ হাজার ২৬০ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৫১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৭৭ শিশু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে হামের এমন ভয়াবহ সংক্রমণ আগে দেখা যায়নি। গত আড়াই দশকে দেশে কখনো হামের রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়ায়নি।
এর আগে ২০০৫ সালে দেশে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৯৩৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। এরপর কয়েক বছর ধরে রোগীর সংখ্যা অনেক কম ছিল। এমনকি ২০২৫ সালে দেশে মাত্র ১৩২ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় টিকা না পাওয়ার কারণে চলতি বছর হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদেরও টিকার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


























