ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চাপ আর্জেন্টিনার, দাবি ইংলিশ ডিফেন্ডার গেহির | বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের বড় বার্তা Logo বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি Logo হরমুজ টোল: ট্রাম্পের বিস্ফোরক পরিকল্পনার আসল রহস্য জানুন Logo হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৯২ শিশু। Logo ইরানের নতুন চাল: বন্ধ হচ্ছে বাব-এল-মান্দেব? ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে তেল! Logo পদার্থ বিজ্ঞান ভুল প্রশ্নপত্র: দায়ীদের সাময়িক বরখাস্ত, ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর Logo মানব পাচার প্রতিরোধ আইন ২০২৬ কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সংবিধান সংশোধন বিতর্ক: সরকার অনড়, বিরোধীদের নতুন চাপের পরিকল্পনা Logo শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ: সায়েন্স ল্যাব ও উত্তরায় নতুন কর্মসূচির ঘোষণা Logo জব্দ ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ: শেখ হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠী সম্পর্কে বড় তথ্য

সংবিধান সংশোধন বিতর্ক: সরকার অনড়, বিরোধীদের নতুন চাপের পরিকল্পনা

সংবিধান সংশোধন নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকার বিদ্যমান সংবিধানের আওতায় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে চাইলেও বিরোধী দল সেই পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, জনগণের গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেই মৌলিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে। এই মতবিরোধ এখন সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ তৈরি করবে। এরপর সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে। সরকারের ভাষ্য, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব এবং সেটিই সবচেয়ে কার্যকর সাংবিধানিক পথ।

অন্যদিকে বিরোধী দল শুরু থেকেই বিশেষ কমিটির বিরোধিতা করে আসছে। সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার পর তারা নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের দাবি, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ছাড়া জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন আরও জোরদার করার কথাও জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা।

বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি আসন খালি রাখা হলেও তারা কোনো সদস্যের নাম দেয়নি। ফলে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত কয়েকজন সংসদ সদস্যের মধ্যেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ জানিয়েছেন, তাঁকে না জানিয়েই কমিটিতে রাখা হয়েছে এবং তিনি এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবিতেই অনড় রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিরোধের মূল কারণ দুটি ভিন্ন সাংবিধানিক পথ। সরকার সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক বিধান অনুসরণ করতে চায়। অন্যদিকে বিরোধী জোট মনে করে, জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আলাদা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেই মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা উচিত। এই অবস্থান থেকে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি।

ফলে সংবিধান সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংসদের বিতর্কের পাশাপাশি রাজপথেও কর্মসূচি জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। অন্যদিকে সরকারও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশোধনী বিল এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাপ আর্জেন্টিনার, দাবি ইংলিশ ডিফেন্ডার গেহির | বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের বড় বার্তা

সংবিধান সংশোধন বিতর্ক: সরকার অনড়, বিরোধীদের নতুন চাপের পরিকল্পনা

Update Time : ০৪:০০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকার বিদ্যমান সংবিধানের আওতায় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে চাইলেও বিরোধী দল সেই পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, জনগণের গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেই মৌলিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে। এই মতবিরোধ এখন সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ তৈরি করবে। এরপর সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে। সরকারের ভাষ্য, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব এবং সেটিই সবচেয়ে কার্যকর সাংবিধানিক পথ।

আরও পড়ুন  সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদের

অন্যদিকে বিরোধী দল শুরু থেকেই বিশেষ কমিটির বিরোধিতা করে আসছে। সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার পর তারা নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের দাবি, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ছাড়া জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন আরও জোরদার করার কথাও জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা।

বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি আসন খালি রাখা হলেও তারা কোনো সদস্যের নাম দেয়নি। ফলে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত কয়েকজন সংসদ সদস্যের মধ্যেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ জানিয়েছেন, তাঁকে না জানিয়েই কমিটিতে রাখা হয়েছে এবং তিনি এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবিতেই অনড় রয়েছেন।

আরও পড়ুন  ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদে হট্টগোল: ঐকমত্য ছাড়াই মুলতবি হলো অধিবেশন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিরোধের মূল কারণ দুটি ভিন্ন সাংবিধানিক পথ। সরকার সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক বিধান অনুসরণ করতে চায়। অন্যদিকে বিরোধী জোট মনে করে, জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আলাদা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেই মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা উচিত। এই অবস্থান থেকে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি।

আরও পড়ুন  গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

ফলে সংবিধান সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংসদের বিতর্কের পাশাপাশি রাজপথেও কর্মসূচি জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। অন্যদিকে সরকারও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশোধনী বিল এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।