উপকূলীয় পর্যটন নগরী কুয়াকাটাকে সমুদ্রের ভাঙন থেকে রক্ষায় নির্মিত শহর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধের বিভিন্ন স্থানে সিসি ব্লক সরে যাওয়া, ফাটল এবং বড় ধরনের ফাঁকা সৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সুরক্ষা অবকাঠামোর কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই এর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। এতে ভবিষ্যতে সমুদ্রভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াকাটা চৌরাস্তা থেকে লেম্বুর বন পর্যন্ত কয়েকটি এলাকায় বাঁধের নিচ থেকে মাটি ও বালু সরে গেছে। কোথাও কোথাও সিসি ব্লকের নিচে বড় ধরনের ফাঁকা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে কুয়াকাটা ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন সানসেট পয়েন্ট এবং আশিঘর এলাকার অর্কা পল্লীর পাশের অংশে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু সিসি ব্লক স্থাপন করে কুয়াকাটাকে দীর্ঘমেয়াদে সমুদ্রভাঙন থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
রেডক্রিসেন্ট ইউনিয়ন টিম লিডার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আন্ধারমানিক ও রাবনাবাদ নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কার্যকর গ্রোয়েন বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, তা না হলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো বারবার ক্ষতির মুখে পড়বে এবং উপকূলীয় এলাকার মানুষের ঝুঁকি কমবে না।
স্থানীয়দের দাবি, কুয়াকাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া শুধু সাময়িক সংস্কার করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
তাদের মতে, সমুদ্রভাঙন অব্যাহত থাকলে পর্যটন খাত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, কুয়াকাটা সৈকতের ১১ দশমিক ২ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত এবং ভাঙন প্রতিরোধে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত। পর্যটন সম্ভাবনাময় এই এলাকা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


























