চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার, ২০৩০ সালের মধ্যে আওতায় আসবে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবার।
দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই সারা দেশে ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের পক্ষে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরের শুরুতেই দেশব্যাপী সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করা হবে। এই শুমারির মাধ্যমে দেশের প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
তিনি বলেন, সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণে Proxy Means Test (PMT) Score ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে পরিবারের আয়, সম্পদ, জীবনমান ও সামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার নির্বাচন করা হবে। ফলে সরকারি ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা, সরকারি সহায়তা এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য কল্যাণমূলক সেবাও একক প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে দেশের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলায় তিন ধাপে ৫৬টি ইউনিটে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।
এই প্রকল্পের আওতায় ৬৯ হাজার ৩৮৭টি নারী-প্রধান পরিবারের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করে নিয়মিত ভাতা বিতরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে উপকারভোগীদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে, যাতে ডাটাবেজ সব সময় নির্ভুল থাকে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা, ২০২৬’ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন শেষে গেজেট প্রকাশের জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা-১৮ আসনের আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক, অলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ী বস্তির (১৯, ৮ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের অংশবিশেষ) এলাকায় ইতোমধ্যে পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
উত্তরা ও আশপাশের এলাকায় পরিবার শুমারি শেষ হওয়ার পর চলতি অর্থবছরেই ব্যাপকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শুমারি শেষে ওয়ার্ডভিত্তিক উপকারভোগীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের কার্যালয়েও সরবরাহ করা হবে, যাতে পুরো কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
সরকারের ফ্যামিলি কার্ডের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—
- প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে চিহ্নিত করা।
- সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
- একই পরিবারের একাধিক সুবিধা গ্রহণ বা অনিয়ম কমানো।
- একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা।
- ভবিষ্যতে সব ধরনের সরকারি সামাজিক সহায়তা একক পরিচয়ের মাধ্যমে প্রদান করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন আরও নির্ভুল হবে এবং সরকারি সহায়তা প্রকৃত প্রাপকদের কাছে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছানো সম্ভব হবে।




























