আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বহুল আলোচিত সেমিফাইনালকে ঘিরে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই উত্তাপ ছড়িয়েছে মাঠের বাইরের আলোচনায়। ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক রেফারি ইসমায়েল এলফাতকে নিয়ে ব্রিটিশ কিছু গণমাধ্যম ও সমর্থকদের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তারা এলফাতকে ‘মেসির প্রিয় রেফারি’ বলে উল্লেখ করছেন।
স্প্যানিশ ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম মার্কা (Marca) জানিয়েছে, মরক্কো বংশোদ্ভূত মার্কিন রেফারি ইসমায়েল এলফাত অতীতে একাধিকবার আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। সেই ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনা জয় পাওয়ায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইংলিশ সমর্থকদের আলোচনায় উঠে এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম GB News-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু ইংলিশ সমর্থকের দাবি, এলফাতের পরিচালনায় মেসি ও আর্জেন্টিনার জয়ের হার শতভাগ। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই তারা তাকে ‘মেসির প্রিয় রেফারি’ বলে অভিহিত করছেন। তবে সংবাদমাধ্যমটিও স্পষ্টভাবে কোনো পক্ষপাতের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসমায়েল এলফাত এর আগে আর্জেন্টিনার কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ, যেখানে মেসির গোলেই জয় পায় আর্জেন্টিনা। এছাড়া ২০২৪ কোপা আমেরিকার একটি ম্যাচেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যেখানে আর্জেন্টিনা জয় তুলে নেয়। এসব ম্যাচে তার রেফারিং নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক দেখা যায়নি।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দলের ম্যাচে একজন রেফারির উপস্থিতিতে ধারাবাহিক জয় পাওয়া মানেই সেই রেফারি পক্ষপাতদুষ্ট—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যৌক্তিক নয়। ম্যাচের ফল নির্ধারণে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, কৌশল, প্রতিপক্ষের মান এবং ম্যাচ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, ফিফা আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে কঠোর মূল্যায়ন ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে। বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে দায়িত্ব পাওয়ার আগে রেফারিদের অভিজ্ঞতা, ফিটনেস, পারফরম্যান্স এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান বিবেচনা করা হয়। তাই এলফাতের নিয়োগও ফিফার নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চললেও এখন পর্যন্ত ইসমায়েল এলফাত বা ফিফার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মতো ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে রেফারির প্রতিটি সিদ্ধান্তই বাড়তি নজরে থাকবে। ফলে ম্যাচ চলাকালীন এলফাতের প্রতিটি বাঁশি, কার্ড ও VAR-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে কেবল অতীতের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কোনো রেফারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সঠিক নয় বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের অভিমত।



























