পেরুতে হলান্ড নাম এখন শুধু ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার বিষয় নয়, এটি দেশটির নবজাতকদের নামকরণের নতুন এক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে পেরুর বহু অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের নাম রাখছেন ‘হলান্ড’।
বিশ্বকাপে গোলের পর গোল করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন আর্লিং হলান্ড। তাঁর শক্তিশালী ফিনিশিং, গতি ও মাঠের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করেছে। সেই জনপ্রিয়তার প্রভাব এবার মাঠের বাইরেও দেখা যাচ্ছে। পেরুর জাতীয় পরিচয় ও নাগরিক নিবন্ধন সংস্থা রেনিয়েক (RENIEC) জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালেই নবজাতকদের মধ্যে ‘হলান্ড’ নাম নিবন্ধনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রেনিয়েকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ৪৬৮ জন শিশুর নাম রাখা হয়েছে ‘হলান্ড’, আর ৯১ জনের পুরো নাম ‘আরলিং হলান্ড’। বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই এই সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে নরওয়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর হলান্ডকে ঘিরে উন্মাদনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। পেরুর সংবাদমাধ্যম Perú21, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Andina–এর বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
রেনিয়েকের মুখপাত্র ইভান তোরেস বলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকারা পেরুর মানুষের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব ফেলছেন। অনেক বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের এমন নাম দিতে চান, যা বিশ্বজুড়ে পরিচিত ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাই ‘হলান্ড’ নাম নিবন্ধনে কোনো বাধা নেই এবং নাগরিকেরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সন্তানের নাম রাখতে পারেন।
অবশ্য পেরুতে ফুটবল তারকাদের নামে শিশুদের নাম রাখার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৩ হাজার ৪০২ জনের নাম ‘মেসি’, ১ হাজার ১৮৫ জনের নাম ‘ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো’, ১ হাজার ২৪১ জনের নাম ‘ইয়ামাল’, ২৩৮ জনের নাম ‘এমবাপ্পে’ এবং ৩৩ হাজার ৮০৯ জনের নাম ‘নেইমার’। এই তালিকায় নতুন সংযোজন হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘হলান্ড’ নামও।
বিশ্বকাপে নরওয়ের ঐতিহাসিক যাত্রা এবং আর্লিং হলান্ডের অসাধারণ পারফরম্যান্স শুধু মাঠেই নয়, মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলছে। পেরুর নবজাতকদের নামকরণের এই প্রবণতা প্রমাণ করে, ফুটবল কখনো কখনো খেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে সংস্কৃতি ও সমাজের অংশ হয়ে ওঠে। আর সেই জনপ্রিয়তার কেন্দ্রেই রয়েছেন আর্লিং হলান্ড।




























