ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর জানাজা Logo বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ, আবেদন ১০ আগস্ট পর্যন্ত Logo রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে Logo হাম ও হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯০ জন Logo হোয়াইট হাউসে হামলার সক্ষমতার দাবি ইরানের Logo শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আবারও সায়েন্স ল্যাবে শিক্ষার্থীরা, চার জেলায় বিক্ষোভ, অবরোধ Logo এল নিনো ঘিরে নতুন সতর্কতা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ Logo পেরুতে হলান্ড নাম রাখার হিড়িক Logo শেখ হাসিনা ফিরলে ‘ওয়েলকাম’, বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা Logo ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে উত্তাল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড চত্বর

এল নিনো ঘিরে নতুন সতর্কতা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৬

বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যার পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হওয়ায় বাংলাদেশসহ এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বন্যা, ভূমিধস, তাপপ্রবাহ, খরা এবং সংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)। সংস্থাটির মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ এসব অঞ্চলের লাখো মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আইআরসির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, কেনিয়া, সোমালিয়া ও উগান্ডা বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশে চলমান মৌসুমি বৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ভূমিধস ও বন্যায় প্রাণহানির পাশাপাশি হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাব অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ায় অতিভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তানে বৃষ্টিপাত কমে গেলেও তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং উত্তরাঞ্চলে হিমবাহ গলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। আফগানিস্তানেও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সোমালিয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নতুন করে বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির সংকট, কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। কেনিয়া ও উগান্ডাও একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরসি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রভাব শুধু বৃষ্টিপাতের ধরণই বদলায় না, বরং কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টি আবার কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরার মতো চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাও (WMO) আগেই সতর্ক করেছিল, এ বছরের গ্রীষ্মে বৈশ্বিক তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এর প্রভাব ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি জুলাইয়ে স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের অন্যতম কারণ সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং এল নিনোর প্রভাব। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, বন্যা ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আইআরসি মনে করছে, আগাম প্রস্তুতি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, দ্রুত সতর্কবার্তা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর জানাজা

এল নিনো ঘিরে নতুন সতর্কতা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

Update Time : ০৪:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হওয়ায় বাংলাদেশসহ এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বন্যা, ভূমিধস, তাপপ্রবাহ, খরা এবং সংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)। সংস্থাটির মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ এসব অঞ্চলের লাখো মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আইআরসির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, কেনিয়া, সোমালিয়া ও উগান্ডা বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশে চলমান মৌসুমি বৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ভূমিধস ও বন্যায় প্রাণহানির পাশাপাশি হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

আরও পড়ুন  সুনামগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে: সুরমা-কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে, নতুন সতর্কতা

সংস্থাটি জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাব অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ায় অতিভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তানে বৃষ্টিপাত কমে গেলেও তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং উত্তরাঞ্চলে হিমবাহ গলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। আফগানিস্তানেও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সোমালিয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নতুন করে বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির সংকট, কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। কেনিয়া ও উগান্ডাও একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরসি।

আরও পড়ুন  বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬: যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে পরিবেশ, ভঙ্গ হচ্ছে জলবায়ু অঙ্গীকার

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রভাব শুধু বৃষ্টিপাতের ধরণই বদলায় না, বরং কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টি আবার কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরার মতো চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থাও (WMO) আগেই সতর্ক করেছিল, এ বছরের গ্রীষ্মে বৈশ্বিক তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এর প্রভাব ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন  তীব্র গরমে যুক্তরাজ্যে বন্ধ হাজারের বেশি স্কুল

বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি জুলাইয়ে স্বল্প সময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের অন্যতম কারণ সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং এল নিনোর প্রভাব। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, বন্যা ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আইআরসি মনে করছে, আগাম প্রস্তুতি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, দ্রুত সতর্কবার্তা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।