টানা ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় ১১ জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে বাহিনী। বিজিবি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
রোববার বিজিবি সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা এবং জামালপুর জেলায় বিশেষভাবে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বাহিনী জানিয়েছে, টানা বৃষ্টির ফলে অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া, খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিজিবির সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় এই ১১ জেলার মোট ৯০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। কোথাও নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
বিশেষ করে বান্দরবানে বিজিবির উদ্ধার কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। সেখানে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বিজিবির মেডিকেল টিম বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও প্রদান করছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া অসুস্থ ও বৃদ্ধ ব্যক্তিদের কাছেও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতেও বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কে উপড়ে পড়া গাছ, মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ করেছে বাহিনীর সদস্যরা। এতে স্থানীয় মানুষের চলাচল কিছুটা সহজ হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় ভূমিক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া একটি স্টিলের সেতু রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিজিবি। সেতুটি নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেই বিজিবি কাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিন আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে বিজিবিকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলা এবং জরুরি প্রয়োজনে নিকটস্থ উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের নির্দেশনায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।





























