পঞ্চগড় সদর উপজেলায় একই দিনে পৃথক দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নদী ও পুকুরের পানিতে ডুবে এক বৃদ্ধ ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সাতমেরা ও মাগুড়া ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। ঘটনাগুলোতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
করতোয়া নদীতে গরু পারাপারের সময় দুর্ঘটনা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের বোদাপাড়া এলাকায় করতোয়া নদী পার হয়ে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় প্রবল স্রোতে ভেসে যান গুল মোহাম্মদ আলী (৬০)। তিনি ওই এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধার চেষ্টা চালালেও সফল হননি। খবর পেয়ে পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে অভিযান চালায়। পরে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার তুষার কান্তি রায় জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে নদীতে স্রোত অনেক বেশি ছিল। প্রবল স্রোতের মুখে গুল মোহাম্মদ আলী ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে তলিয়ে যান।
বাড়ির পাশের পুকুরে ভেসে মিলল শিশুর মরদেহ
একই দিন বিকেলে সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের উত্তর ধনিপাড়া গ্রামে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে মারা যায় আলিফ (৬) নামে এক শিশু। সে আবুল কাশেমের ছেলে এবং স্থানীয় ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুপুরে বাড়ির আঙিনায় খেলছিল আলিফ। দুপুর ২টার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা দীর্ঘ সময় ধরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি চালান। পরে বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। দ্রুত উদ্ধার করা হলেও তখন সে আর বেঁচে ছিল না।
পুলিশের বক্তব্য
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, দুই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কেন বাড়ছে?
বর্ষা মৌসুমে নদী, খাল-বিল ও পুকুরে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং স্রোত তীব্র হওয়ায় ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে—
- নদী পারাপারের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে।
- বাড়ির আশপাশে অরক্ষিত পুকুর শিশুদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
- শিশুদের একা খেলতে দেওয়া হলে নজরদারির অভাবে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
- অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময় পানির গভীরতা ও স্রোত সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রাণঘাতী হতে পারে।
সচেতনতায় যা করা জরুরি
- প্রবল স্রোতের সময় নদী পারাপার এড়িয়ে চলা।
- শিশুদের সবসময় বড়দের নজরদারিতে রাখা।
- বাড়ির পুকুর বা জলাশয়ের চারপাশে বেড়া বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা।
- সাঁতার না জানলে গভীর পানিতে নামা থেকে বিরত থাকা।
- বর্ষাকালে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সতর্কবার্তা মেনে চলা।
এই দুই পৃথক দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, বর্ষাকালে নদী ও পুকুরের আশপাশে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




























