ঢাকা ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভয়াবহ খরায় পুড়ছে ইউরোপ, ধানক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে

ইতালিতে ভয়াবহ খরা ও ফেটে যাওয়া ফসলের মাঠ। ছবি: সংগৃহীত

ইতালিতে ভয়াবহ খরা এবং তীব্র তাপপ্রবাহের সাথে দীর্ঘদিনের বৃষ্টির অভাব একত্রিত হয়ে ইউরোপের অন্যতম প্রধান ও বিখ্যাত ধান উৎপাদনকারী অঞ্চল উত্তর ইতালিকে এক নজিরবিহীন ও চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

পানির তীব্র সংকটে মাইলের পর মাইল চোখ ধাঁধানো সবুজ ধানক্ষেত পুরোপুরি শুকিয়ে যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও চাষের জমি অনাকাঙ্ক্ষিত আগাছায় ভরে যাওয়ায় ইতালির পাভিয়া প্রদেশের কৃষক শারন আঙ্গোলিসহ হাজারো খামারি এ বছরের আশানুরূপ ফলন নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষক কার্লো আঙ্গোলির মতে, এই মুহূর্তে ফসল বাঁচাতে অন্তত ৫০ মিলিমিটার স্বাভাবিক বৃষ্টির তীব্র প্রয়োজন হলেও, হঠাৎ শিলাবৃষ্টি হলে ফসলের আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে না হলে সেপ্টেম্বর মাসে ঘরে তোলার অপেক্ষায় থাকা সব সুশি চালের আবাদ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেবে।

পাভিয়া অঞ্চলটি মূলত সুশি তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ জাতের ধানের জন্য বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত বিখ্যাত হলেও বসন্তকাল থেকে শুরু হওয়া কম বৃষ্টিপাতের কারণে সেচের পানির এমন ভয়াবহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে যে, বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে পানি বণ্টনকে কেন্দ্র করে এখন মারাত্মক বিরোধ ও পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়েছে।

এই চলমান খরার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে উত্তর ইতালির জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ পো নদী ও এর শাখা-নদীগুলোর ওপর, যার পানির স্তর দ্রুত হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন হ্রদের সংরক্ষিত কৃত্রিম মজুত থেকে পানি ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও পরিবেশবিদরা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেই মজুতও ফুরিয়ে যাওয়ার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভয়াবহ খরায় পুড়ছে ইউরোপ, ধানক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে

Update Time : ০৯:৩৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

ইতালিতে ভয়াবহ খরা এবং তীব্র তাপপ্রবাহের সাথে দীর্ঘদিনের বৃষ্টির অভাব একত্রিত হয়ে ইউরোপের অন্যতম প্রধান ও বিখ্যাত ধান উৎপাদনকারী অঞ্চল উত্তর ইতালিকে এক নজিরবিহীন ও চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

পানির তীব্র সংকটে মাইলের পর মাইল চোখ ধাঁধানো সবুজ ধানক্ষেত পুরোপুরি শুকিয়ে যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও চাষের জমি অনাকাঙ্ক্ষিত আগাছায় ভরে যাওয়ায় ইতালির পাভিয়া প্রদেশের কৃষক শারন আঙ্গোলিসহ হাজারো খামারি এ বছরের আশানুরূপ ফলন নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  পরমাণু পরিদর্শন ছাড়া চুক্তি নয়, ইরানকে ট্রাম্পের সতর্কতা

কৃষক কার্লো আঙ্গোলির মতে, এই মুহূর্তে ফসল বাঁচাতে অন্তত ৫০ মিলিমিটার স্বাভাবিক বৃষ্টির তীব্র প্রয়োজন হলেও, হঠাৎ শিলাবৃষ্টি হলে ফসলের আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে না হলে সেপ্টেম্বর মাসে ঘরে তোলার অপেক্ষায় থাকা সব সুশি চালের আবাদ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেবে।

পাভিয়া অঞ্চলটি মূলত সুশি তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ জাতের ধানের জন্য বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত বিখ্যাত হলেও বসন্তকাল থেকে শুরু হওয়া কম বৃষ্টিপাতের কারণে সেচের পানির এমন ভয়াবহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে যে, বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে পানি বণ্টনকে কেন্দ্র করে এখন মারাত্মক বিরোধ ও পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন  দিনে মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটলেই পুরস্কার, এনএইচএসের নতুন ঘোষণা

এই চলমান খরার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে উত্তর ইতালির জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ পো নদী ও এর শাখা-নদীগুলোর ওপর, যার পানির স্তর দ্রুত হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন হ্রদের সংরক্ষিত কৃত্রিম মজুত থেকে পানি ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও পরিবেশবিদরা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেই মজুতও ফুরিয়ে যাওয়ার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন  সকালের মধ্যে ৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা