আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠান ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানে অনুষ্ঠিতব্য এই শোকানুষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ভারত সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এনডিটিভির বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রতিনিধি দলে বিহারের গভর্নর জেনারেল সৈয়দ হাসনাইন এবং দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্রা মার্গারিটা থাকবেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তবুও তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। তবে কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারত সরকার প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ৪ জুলাই থেকে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু হবে এবং ৯ জুলাই দাফনের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে। এর মধ্যে ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে শেষ জানাজার আয়োজন করা হবে। দেশটির কর্তৃপক্ষের ধারণা, পুরো শোকানুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেই এই শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
ভারত ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। জ্বালানি, বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কৌশলগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চললেও নয়াদিল্লি ও তেহরান কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
চলতি বছরের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ভারত সফর করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেন। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়েও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক বৈঠক ও টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের প্রতিনিধি দল এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গুরুত্ব পাবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকছেন না, তবুও প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



























