ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানি অনুমোদন Logo আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না নরেন্দ্র মোদি Logo দীপিকা-ক্যাটরিনাকে পেছনে ফেলে আলিয়ার নতুন রেকর্ড, চমকে গেল বলিউড Logo দোষ কি গোলরক্ষকদের, নাকি বিশ্বকাপের নতুন বলের? Logo ফোয়েবি ব্রিজার্সের দারুণ প্রত্যাবর্তন, আসছে নতুন অ্যালবাম Logo লিওনেল মেসি স্পাইডার-ম্যান প্রচারণায়, পারিশ্রমিক শুনে চোখ কপালে! Logo ম্যাচের আগেই মেসিকে হারিয়ে দিলেন এক প্রেসিডেন্ট! কী বললেন তিনি? Logo সময় রায়না ঘিরে তুমুল বিতর্ক, নেটফ্লিক্সে দারুণ প্রত্যাবর্তন Logo শি জিনপিংয়ের বড় বার্তা, কেন বদলে যেতে বললেন কমিউনিস্ট পার্টিকে? Logo শিল্পী সমিতির নির্বাচন, দুই প্যানেলে লড়ছেন যেসব প্রার্থী

শি জিনপিংয়ের বড় বার্তা, কেন বদলে যেতে বললেন কমিউনিস্ট পার্টিকে?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:১৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৭

কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: সংগৃহীত।

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টিকে দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ও দলটির মহাসচিব শি জিনপিং। দলটির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, শুধু অর্জিত সাফল্য ধরে রাখলেই হবে না, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার (১ জুলাই) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রায় ৪০ মিনিটের ভাষণ দেন শি জিনপিং। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে চীনের সামনে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি বেড়েছে নানা ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও।

শি বলেন, দেশের উন্নয়ন এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কৌশলগত সুযোগ, অনিশ্চয়তা ও বাধা একই সঙ্গে বিদ্যমান। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলীয় নেতৃত্বকে আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির ‘বিশুদ্ধতা’ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন। দলের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে কিংবা সংগঠনের ভিত দুর্বল করে এমন সব উপাদান নির্মূলে সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

তাইওয়ান প্রসঙ্গও উঠে আসে শি জিনপিংয়ের বক্তব্যে। তিনি বলেন, দ্বীপটির সঙ্গে ‘পুনর্মিলন’ বাস্তবায়নে কমিউনিস্ট পার্টির নির্ধারিত কৌশল দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

২০১২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব হওয়ার পর থেকে শি জিনপিং দলের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছেন। একই সঙ্গে সদস্যদের মধ্যে কঠোর শৃঙ্খলা, আদর্শিক আনুগত্য এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন।

তার নেতৃত্বেই চীনে মাও-পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের লাখ লাখ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য ১০ সপ্তাহের রাজনৈতিক পুনঃশিক্ষা কর্মসূচির নির্দেশ দেন শি। এর লক্ষ্য ছিল দলীয় আদর্শ, বিশ্বাস ও সংগঠনের প্রতি অটল আনুগত্য আরও জোরদার করা।

১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বর্তমান সদস্যসংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির লক্ষ্য শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হওয়া নয়, বরং সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানি অনুমোদন

শি জিনপিংয়ের বড় বার্তা, কেন বদলে যেতে বললেন কমিউনিস্ট পার্টিকে?

Update Time : ১০:১৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টিকে দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ও দলটির মহাসচিব শি জিনপিং। দলটির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, শুধু অর্জিত সাফল্য ধরে রাখলেই হবে না, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার (১ জুলাই) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রায় ৪০ মিনিটের ভাষণ দেন শি জিনপিং। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে চীনের সামনে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি বেড়েছে নানা ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও।

শি বলেন, দেশের উন্নয়ন এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কৌশলগত সুযোগ, অনিশ্চয়তা ও বাধা একই সঙ্গে বিদ্যমান। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলীয় নেতৃত্বকে আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির ‘বিশুদ্ধতা’ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন। দলের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে কিংবা সংগঠনের ভিত দুর্বল করে এমন সব উপাদান নির্মূলে সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

তাইওয়ান প্রসঙ্গও উঠে আসে শি জিনপিংয়ের বক্তব্যে। তিনি বলেন, দ্বীপটির সঙ্গে ‘পুনর্মিলন’ বাস্তবায়নে কমিউনিস্ট পার্টির নির্ধারিত কৌশল দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

২০১২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব হওয়ার পর থেকে শি জিনপিং দলের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছেন। একই সঙ্গে সদস্যদের মধ্যে কঠোর শৃঙ্খলা, আদর্শিক আনুগত্য এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন।

তার নেতৃত্বেই চীনে মাও-পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের লাখ লাখ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য ১০ সপ্তাহের রাজনৈতিক পুনঃশিক্ষা কর্মসূচির নির্দেশ দেন শি। এর লক্ষ্য ছিল দলীয় আদর্শ, বিশ্বাস ও সংগঠনের প্রতি অটল আনুগত্য আরও জোরদার করা।

১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বর্তমান সদস্যসংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির লক্ষ্য শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হওয়া নয়, বরং সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।