ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বিভ্রান্তকারীদের নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৮

কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিভ্রান্তকারীদের নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশে বিভিন্ন ধরনের রটনা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তাদের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপরও নজর রাখা প্রয়োজন। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কোনো বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে প্রভাবিত না হয়ে দেশের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে এমন ব্যক্তিদের অতীত ভূমিকা বিশ্লেষণ করা জরুরি। অতীতে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কার কী ভূমিকা ছিল, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। তাঁর ভাষ্য, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার মতো কোনো কর্মকাণ্ড যাতে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হলে অতীতের মতো যথাযথভাবে তার মোকাবিলা করার কথাও বলেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। জেলার নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু ও পাদ্রীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে সম্মানি দেওয়া হয়। এ ছাড়া অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সহায়তার চেক এবং একজন প্রতিবন্ধীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীদের বাদ দিয়ে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, পরিবারের নারীর হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছানো গেলে পরিবারগুলো আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে। নারীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা, ভালো ফলাফলের জন্য সরকারি সহযোগিতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। কৃষক কার্ড চালুর পাশাপাশি কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা ও পানি সংকট সমাধানে বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন তিনি। কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার প্রসার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন মিল-কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কর্মসংস্থানকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়েও বক্তব্য দেন তারেক রহমান। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও ভাষাগত দক্ষতার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে পরিপূর্ণ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, অসচ্ছল মানুষ, প্রতিবন্ধী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যও উঠে আসে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঠমান্ডুতে যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিমানের ফ্লাইট গ্রাউন্ডেড, ফিরছেন ১২৭ যাত্রী

বিভ্রান্তকারীদের নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : ১০:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বিভ্রান্তকারীদের নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশে বিভিন্ন ধরনের রটনা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তাদের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপরও নজর রাখা প্রয়োজন। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কোনো বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে প্রভাবিত না হয়ে দেশের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে এমন ব্যক্তিদের অতীত ভূমিকা বিশ্লেষণ করা জরুরি। অতীতে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কার কী ভূমিকা ছিল, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। তাঁর ভাষ্য, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার মতো কোনো কর্মকাণ্ড যাতে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হলে অতীতের মতো যথাযথভাবে তার মোকাবিলা করার কথাও বলেন তিনি।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ: শুক্রবার ঘোষণা নিয়ে জোরালো আলোচনা

কিশোরগঞ্জের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। জেলার নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু ও পাদ্রীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে সম্মানি দেওয়া হয়। এ ছাড়া অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সহায়তার চেক এবং একজন প্রতিবন্ধীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীদের বাদ দিয়ে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, পরিবারের নারীর হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছানো গেলে পরিবারগুলো আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে। নারীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা, ভালো ফলাফলের জন্য সরকারি সহযোগিতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সতর্ক বার্তা: সময় না দেওয়ার হুমকি

কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। কৃষক কার্ড চালুর পাশাপাশি কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা ও পানি সংকট সমাধানে বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন তিনি। কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার প্রসার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন মিল-কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কর্মসংস্থানকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়েও বক্তব্য দেন তারেক রহমান। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও ভাষাগত দক্ষতার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে পরিপূর্ণ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, অসচ্ছল মানুষ, প্রতিবন্ধী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যও উঠে আসে।