রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী শুক্রবার পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কার্যালয় কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
রয়টার্স তিনটি পৃথক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করেছেন। আরেকটি সূত্র বলেছে, গত মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রীকে নিজের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় কোনো সূত্রই প্রকাশ্যে পরিচয় দিতে রাজি হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। এরপর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে গত বছরের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ওই আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
রয়টার্স আরও বলেছে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবিতে রাজনৈতিক ও জনমতের চাপ বাড়ছিল। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মোড়ে নিয়ে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এখন সবার নজর শুক্রবারের দিকে। রাষ্ট্রপতি সত্যিই পদত্যাগের ঘোষণা দেন কি না, সেটিই হবে দেশের রাজনীতির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত রয়টার্সের এই তথ্যকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।























