ঢাকা ১০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১১

কর্মসংস্থান নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের কর্মক্ষমতা। বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায় এবং প্রিয় মাতৃভূমিকে বিশ্বের বুকে আরও এগিয়ে যেতে দেখতে চায়।

৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তরের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ানো ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে পারলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাত, উদ্যোক্তা এবং তরুণদেরও এগিয়ে আসতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি এবং উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে যদি সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সেই পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সরকার প্রস্তুত। তবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, একজন রাজনীতিবিদের দায়িত্ব হলো মানুষকে বিভ্রান্ত না করে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করা এবং কঠিন সময়ে জনগণকে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি সঠিক পথ দেখানো।

রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা, হঠকারিতা ও মিথ্যাচারের রাজনীতির দিন শেষ হয়েছে। জনগণ এখন উন্নয়ন ও কল্যাণের বাস্তব পরিকল্পনা দেখতে চায়। তাই সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে মানুষের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। রাস্তায় ভাঙচুর কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে মানুষের সমর্থন পাওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা-১৭ আসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলাকার মানুষের সেবা করতে গিয়ে অনেক কাজ বাস্তবায়নে সময় লাগে। একটি লেক পরিষ্কার করতেও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হতে পারে। এসব কাজ বাইরে থেকে সহজ মনে হলেও বাস্তবে এগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন। তাই শুধু সমালোচনা না করে যারা দেশের জন্য কাজ করতে চান, তাদের মাঠে নামার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা এবং এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত, যা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক বিরোধ ও অতীতের নানা ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সামনে বিভ্রান্তি তৈরি না করে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নিজেদের পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা। মানুষের কল্যাণে কোনো কার্যকর প্রস্তাব থাকলে তা সংসদে উপস্থাপন করার আহ্বান জানান তিনি। সরকার ভালো পরিকল্পনা পেলে তা বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্যে কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, জনকল্যাণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতিকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর

Update Time : ০৯:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের কর্মক্ষমতা। বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায় এবং প্রিয় মাতৃভূমিকে বিশ্বের বুকে আরও এগিয়ে যেতে দেখতে চায়।

৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তরের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ানো ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে পারলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাত, উদ্যোক্তা এবং তরুণদেরও এগিয়ে আসতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি এবং উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা পরিদর্শন: নগর তদারকির ৭ গুরুত্বপূর্ণ দিক

দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে যদি সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সেই পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সরকার প্রস্তুত। তবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, একজন রাজনীতিবিদের দায়িত্ব হলো মানুষকে বিভ্রান্ত না করে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করা এবং কঠিন সময়ে জনগণকে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি সঠিক পথ দেখানো।

আরও পড়ুন  ধর্ষণ মামলা পল্লবীতে রামিসার বাসায় গিয়ে পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা, হঠকারিতা ও মিথ্যাচারের রাজনীতির দিন শেষ হয়েছে। জনগণ এখন উন্নয়ন ও কল্যাণের বাস্তব পরিকল্পনা দেখতে চায়। তাই সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে মানুষের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। রাস্তায় ভাঙচুর কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে মানুষের সমর্থন পাওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা-১৭ আসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলাকার মানুষের সেবা করতে গিয়ে অনেক কাজ বাস্তবায়নে সময় লাগে। একটি লেক পরিষ্কার করতেও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হতে পারে। এসব কাজ বাইরে থেকে সহজ মনে হলেও বাস্তবে এগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন। তাই শুধু সমালোচনা না করে যারা দেশের জন্য কাজ করতে চান, তাদের মাঠে নামার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা এবং এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত, যা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ে, গুরুত্ব পেল বৈশ্বিক অর্থনীতি

রাজনৈতিক বিরোধ ও অতীতের নানা ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সামনে বিভ্রান্তি তৈরি না করে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নিজেদের পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা। মানুষের কল্যাণে কোনো কার্যকর প্রস্তাব থাকলে তা সংসদে উপস্থাপন করার আহ্বান জানান তিনি। সরকার ভালো পরিকল্পনা পেলে তা বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্যে কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, জনকল্যাণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতিকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।