গ্যাস সরবরাহ নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যে এবার কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছিলেন সাধারণ গ্রাহক, শিল্পকারখানা ও ব্যবসায়ীরা। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে আগের তুলনায় বেশি গ্যাস যুক্ত হচ্ছে। শনিবার ভোর থেকে সরবরাহ পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। ফলে সংকট পুরোপুরি না কাটলেও পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী বুধবারের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।
সাম্প্রতিক সমস্যার পেছনে বড় কারণ ছিল সামিট এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাত। টার্মিনালটির উদ্দেশে যাত্রা করা একটি এলএনজিবাহী জাহাজ বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত বাতাসের কারণে গত ১০ আগস্ট সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এর ফলে টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছিল। এতে জাতীয় গ্রিডে চাপ তৈরি হয় এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের ঘাটতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরে নতুন একটি এলএনজিবাহী জাহাজ ১৪ আগস্ট টার্মিনালে পৌঁছায়। এর পর থেকেই সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, বর্তমানে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে এই টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ সামিটের সরবরাহ এখন প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে শুধু এই টার্মিনালের সরবরাহ বাড়লেই পুরো সংকট কাটছে না। কারণ অন্য একটি এলএনজি টার্মিনালেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। সেটির মেরামত কাজও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছু সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। আংশিক মেরামতের পর বর্তমানে ওই টার্মিনাল থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। তবে স্বাভাবিক সময়ে এই টার্মিনাল থেকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেরামতের বাকি কাজ শেষ হলে এখান থেকেও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ফলে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এলাকাগুলোতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে দুই এলএনজি টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সামিট থেকে প্রায় ৪৬০ এবং এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আসছে। স্বাভাবিক সময়ে দুই টার্মিনাল মিলিয়ে এই পরিমাণ প্রায় ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়। অর্থাৎ এখনও প্রতিদিন প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, মেরামত কাজ শেষ হলে ঘাটতি দ্রুত কমে যাবে এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপও বাড়বে।
সব মিলিয়ে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে এখন বড় ধরনের উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৯ আগস্ট বুধবারের মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের মেরামত কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। কাজ শেষ হলে ওই টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সামিট থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ দুই টার্মিনাল থেকে সম্মিলিত সরবরাহ প্রায় ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে ফিরে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর তৈরি হওয়া চাপ অনেকটাই কমতে পারে। বুধবার নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চলমান গ্যাস সংকট থেকেও মিলবে বড় স্বস্তি।



























