ফতুল্লায় গোলাগুলি ঘিরে নারায়ণগঞ্জের ইসদাইর এলাকায় শনিবার বিকালে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় পুলিশের সঙ্গে অস্ত্রধারী মাদক কারবারিদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। একই সময় পুলিশের পালটা গুলিতে এক মাদক কারবারি আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগজিন উদ্ধারের পাশাপাশি দুজনকে আটক করা হয়। শনিবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ইসদাইর এলাকার আরবান স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানের সময় হঠাৎ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও ইটপাটকেল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পালটা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ফতুল্লায় গোলাগুলির ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই মো. রফিক, এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার ও কনস্টেবল রাশিদুল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হলে তারা আহত হন। পরে আহত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে পুলিশের গুলিতে আহত অবস্থায় জসিম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জসিম ফতুল্লা এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের একজন এবং তিনি রেজ্জাক বেপারীর ছেলে। তার বয়স ২৪ বছর। একই অভিযানে আব্দুস সালামের ছেলে মোহন নামের ২৩ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, আটক দুজনই একই এলাকার বাসিন্দা। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা আরও জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসদাইর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় জসিম, মোহনসহ প্রায় ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। শুধু গুলি নয়, পুলিশ সদস্যদের দিকে ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করা হয় বলে দাবি পুলিশের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ পালটা গুলি চালায়। একপর্যায়ে জসিম গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে আটক করা হয়। এই ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের জন্য অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতি না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগজিন উদ্ধারের তথ্যও দিয়েছে পুলিশ। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি ঘটনাটিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এনেছে। পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় অস্ত্রধারীদের প্রতিরোধের মুখেই সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফতুল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, অভিযানের সময় অস্ত্রধারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পালটা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয় এবং দুজনকে আটক করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ফতুল্লায় গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের ব্যবহার এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে ঘটনার পুরো চিত্র স্পষ্ট করতে পুলিশি তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং উদ্ধার হওয়া আলামত যাচাই করা প্রয়োজন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেটিও পরবর্তী সময়ে পরিষ্কার হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হতে পারে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোই শ্রেয়।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। একদিকে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, অন্যদিকে পুলিশের গুলিতে একজন আহত অবস্থায় আটক হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও পুলিশের অভিযানের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এখন মূল নজর থাকবে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তদন্ত এবং অভিযানে পালিয়ে যাওয়া অন্যদের শনাক্ত করার দিকে। এ বিষয়ে পুলিশের পরবর্তী বক্তব্যে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত তথ্য জানতে বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি আপনার ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য খবর, অপরাধ সংবাদ ও মাদকবিরোধী অভিযান বিভাগের প্রাসঙ্গিক পুরোনো প্রতিবেদনগুলোর অভ্যন্তরীণ লিংক যুক্ত করলে পাঠক আরও তথ্য সহজে খুঁজে পাবেন।




























