ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৫

ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খোঁজে বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত ।

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল শিশুটিকে লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের একটি বিধ্বস্ত ভবন থেকে উদ্ধার করে। এই ঘটনাকে দেশজুড়ে আশার প্রতীক হিসেবে দেখছেন উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

উদ্ধারের সময় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে শিশুটিকে বের করে আনার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারীরা আনন্দে উল্লাস করেন। দীর্ঘ সময় পর জীবিত কাউকে উদ্ধার করতে পারায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ও আবেগের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

দেশটির অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির নাম ক্লিয়েবার মোরান। তাকে উদ্ধারের পর দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ শিশুটির উদ্ধারকে ‘আশার মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো জীবিত মানুষ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি।

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ এবং আরও কয়েক হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এতে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সেই সময় পার হওয়ার পরও ক্লিয়েবারকে জীবিত উদ্ধার হওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোর মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি লা গুয়াইরায় এখনো উদ্ধারকাজ চলছে। অনেক স্থানে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজার চেষ্টা করছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, লা গুয়াইরায় খাদ্যসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। মৌলিক সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইউএনএইচসিআর আরও জানায়, সীমিত ত্রাণ সহায়তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে হতাশা ও উত্তেজনা বাড়ছে। ভূমিকম্পে আহত স্থানীয় ফেরিওয়ালা ড্যানিয়েলা আরমাস বলেন, খাবারের জন্য মানুষকে প্রায় একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।

সংস্থাটি আগামী ছয় মাসে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৩০ হাজার মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয়, সুরক্ষা ও ত্রাণসেবা নিশ্চিত করতে প্রাথমিকভাবে এক কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত এগিয়ে আসারও অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সর্বশেষ ৪৭ টন ত্রাণসামগ্রীর চালানে জরুরি ওষুধ, নিরাপদ প্রসবের সরঞ্জাম, নবজাতকের পরিচর্যা সামগ্রী এবং রোগ প্রতিরোধের বিভিন্ন উপকরণ পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকারীরা বলছেন, ক্লিয়েবারের অলৌকিক উদ্ধার নতুন করে বহু পরিবারকে স্বজন ফিরে পাওয়ার আশা দেখাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গরমে কফিপ্রেমীদের নতুন পছন্দ, ইতালির অ্যাফোগাটো কফি

ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু

Update Time : ০৩:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল শিশুটিকে লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের একটি বিধ্বস্ত ভবন থেকে উদ্ধার করে। এই ঘটনাকে দেশজুড়ে আশার প্রতীক হিসেবে দেখছেন উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

উদ্ধারের সময় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে শিশুটিকে বের করে আনার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারীরা আনন্দে উল্লাস করেন। দীর্ঘ সময় পর জীবিত কাউকে উদ্ধার করতে পারায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ও আবেগের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

দেশটির অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির নাম ক্লিয়েবার মোরান। তাকে উদ্ধারের পর দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ শিশুটির উদ্ধারকে ‘আশার মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো জীবিত মানুষ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি।

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ এবং আরও কয়েক হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এতে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সেই সময় পার হওয়ার পরও ক্লিয়েবারকে জীবিত উদ্ধার হওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোর মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি লা গুয়াইরায় এখনো উদ্ধারকাজ চলছে। অনেক স্থানে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজার চেষ্টা করছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, লা গুয়াইরায় খাদ্যসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। মৌলিক সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইউএনএইচসিআর আরও জানায়, সীমিত ত্রাণ সহায়তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে হতাশা ও উত্তেজনা বাড়ছে। ভূমিকম্পে আহত স্থানীয় ফেরিওয়ালা ড্যানিয়েলা আরমাস বলেন, খাবারের জন্য মানুষকে প্রায় একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।

সংস্থাটি আগামী ছয় মাসে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৩০ হাজার মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয়, সুরক্ষা ও ত্রাণসেবা নিশ্চিত করতে প্রাথমিকভাবে এক কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত এগিয়ে আসারও অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সর্বশেষ ৪৭ টন ত্রাণসামগ্রীর চালানে জরুরি ওষুধ, নিরাপদ প্রসবের সরঞ্জাম, নবজাতকের পরিচর্যা সামগ্রী এবং রোগ প্রতিরোধের বিভিন্ন উপকরণ পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকারীরা বলছেন, ক্লিয়েবারের অলৌকিক উদ্ধার নতুন করে বহু পরিবারকে স্বজন ফিরে পাওয়ার আশা দেখাচ্ছে।