রাশিয়া-ইউক্রেন হামলা আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নতুন করে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন আক্রমণে দুই পক্ষ মিলিয়ে অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউক্রেনের কিয়েভ, চেরনিহিভ, খারকিভ ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চল। বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল।
রোববার রাতজুড়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও শতাধিক ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায় রাশিয়া। উত্তরাঞ্চলের চেরনিহিভে একটি সুপারমার্কেটে ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে নয় বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। এছাড়া অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে সাধারণ মানুষের ওপর পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
খারকিভে পৃথক ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় আরও একজন প্রাণ হারান এবং কয়েকজন আহত হন। রাজধানী কিয়েভেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি বহুতল ভবনে আগুন ধরে যায়। জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও তিনজন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন দোনেৎস্ক অঞ্চলের হোরলিভকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রুশ প্রশাসন। পরে আরেকটি হামলায় জরুরি সেবার একটি যান ক্ষতিগ্রস্ত হলে চিকিৎসাকর্মীসহ আরও চারজন আহত হন। এছাড়া সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলেও ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে যুদ্ধের কারণে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বছরের প্রথম ছয় মাসেই ইউক্রেনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং প্রায় ৮ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে রাশিয়াতেও শতাধিক বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা এখনও কোনো অগ্রগতি পায়নি। উভয় পক্ষই সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং নতুন করে হামলার মাত্রা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে রাশিয়া-ইউক্রেন হামলা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


























