ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা: অবৈধ স্লুইস গেট বন্ধে বন্যার দুর্ভোগ আরও বাড়ল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৪৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ৫২৫

অবৈধভাবে বন্ধ করে রাখা স্লুইস গেট। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা এবার শুধু টানা বৃষ্টির কারণেই নয়, বরং মানুষের তৈরি বিভিন্ন বাধার কারণেও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চল ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি মাছের ঘের ও লবণ চাষ রক্ষার জন্য অবৈধভাবে স্লুইস গেট বন্ধ করে রাখছেন এবং খালের ওপর বাঁধ তৈরি করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবে বন্যার পানি নেমে যেতে পারছে না।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB) জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় নির্মিত স্লুইস গেটের মূল উদ্দেশ্য হলো জোয়ারের সময় লবণাক্ত পানি ভেতরে ঢুকতে না দেওয়া এবং ভাটার সময় ভেতরের অতিরিক্ত পানি নদীর মাধ্যমে সাগরে বের করে দেওয়া। কিন্তু অনেক এলাকায় এই স্বাভাবিক ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে কাঠ, তক্তা ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করে গেট আটকে রাখায় পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা
বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শুধু স্লুইস গেটই নয়, বিভিন্ন খালের ওপর মাছের ঘের তৈরির জন্য নির্মিত অবৈধ বাঁধও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বাঁধের কারণে বন্যার পানি স্লুইস গেট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে কয়েক দিন ধরে এসব অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং বন্ধ গেট খুলে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর আবারও গেট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কক্সবাজারের চকরিয়ার বদরখালী এলাকার একটি পাঁচ ভেন্টের স্লুইস গেট পরিদর্শন করে পরিবেশবাদী সংগঠনের স্থানীয় নেতারা দেখেছেন, মাত্র চার ফুট জায়গা খোলা রেখে বাকি অংশ কাঠ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পানি প্রবাহ কমিয়ে সেখানে মাছ ধরার জাল বসানো হয়েছে যাতে মাছ আটকে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে লাখ টাকার মাছ ধরা হয়েছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোথাও অবৈধভাবে স্লুইস গেট বন্ধের খবর পেলেই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে আবারও গেট বন্ধ করে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে পেকুয়া উপজেলাতেও খালের অবৈধ বাঁধ এবং স্লুইস গেটের অনিয়মিত ব্যবহারের কারণে পানি নামতে দেরি হচ্ছে। ফলে উপকূলীয় কয়েকটি ইউনিয়নে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দিন ধরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করলেই হবে না; একই সঙ্গে নদী, খাল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে অবৈধ দখল ও বাধামুক্ত রাখতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মতো উপকূলীয় এলাকায় সামান্য অতিবৃষ্টিতেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবারে ডায়াবেটিস? সন্তানের ঝুঁকি কমাতে যা করবেন

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা: অবৈধ স্লুইস গেট বন্ধে বন্যার দুর্ভোগ আরও বাড়ল

Update Time : ০৪:৪৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা এবার শুধু টানা বৃষ্টির কারণেই নয়, বরং মানুষের তৈরি বিভিন্ন বাধার কারণেও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চল ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি মাছের ঘের ও লবণ চাষ রক্ষার জন্য অবৈধভাবে স্লুইস গেট বন্ধ করে রাখছেন এবং খালের ওপর বাঁধ তৈরি করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবে বন্যার পানি নেমে যেতে পারছে না।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB) জানিয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় নির্মিত স্লুইস গেটের মূল উদ্দেশ্য হলো জোয়ারের সময় লবণাক্ত পানি ভেতরে ঢুকতে না দেওয়া এবং ভাটার সময় ভেতরের অতিরিক্ত পানি নদীর মাধ্যমে সাগরে বের করে দেওয়া। কিন্তু অনেক এলাকায় এই স্বাভাবিক ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে কাঠ, তক্তা ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করে গেট আটকে রাখায় পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন  হাওরে ধান তলিয়ে গেছে: কৃষকের আহাজারি, বন্যায় হাজার হেক্টর ফসল নষ্ট
চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা
বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শুধু স্লুইস গেটই নয়, বিভিন্ন খালের ওপর মাছের ঘের তৈরির জন্য নির্মিত অবৈধ বাঁধও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বাঁধের কারণে বন্যার পানি স্লুইস গেট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে কয়েক দিন ধরে এসব অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং বন্ধ গেট খুলে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর আবারও গেট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন  ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠল আফগানিস্তান

কক্সবাজারের চকরিয়ার বদরখালী এলাকার একটি পাঁচ ভেন্টের স্লুইস গেট পরিদর্শন করে পরিবেশবাদী সংগঠনের স্থানীয় নেতারা দেখেছেন, মাত্র চার ফুট জায়গা খোলা রেখে বাকি অংশ কাঠ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পানি প্রবাহ কমিয়ে সেখানে মাছ ধরার জাল বসানো হয়েছে যাতে মাছ আটকে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে লাখ টাকার মাছ ধরা হয়েছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোথাও অবৈধভাবে স্লুইস গেট বন্ধের খবর পেলেই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে আবারও গেট বন্ধ করে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে পেকুয়া উপজেলাতেও খালের অবৈধ বাঁধ এবং স্লুইস গেটের অনিয়মিত ব্যবহারের কারণে পানি নামতে দেরি হচ্ছে। ফলে উপকূলীয় কয়েকটি ইউনিয়নে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দিন ধরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  ফুটবলের রাজনীতি, রাজনীতির বিশ্বকাপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করলেই হবে না; একই সঙ্গে নদী, খাল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে অবৈধ দখল ও বাধামুক্ত রাখতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মতো উপকূলীয় এলাকায় সামান্য অতিবৃষ্টিতেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।