ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল Logo ‘ধরা পড়ে’ সাইকেল ফেরত দিলেন জামায়াত নেতা Logo নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যা, সড়কের পাশে মিলল মরদেহ Logo ফুলগাজীতে র‍্যাবের অভিযানে বিদেশি মদ-ইয়াবাসহ আটক ১ Logo রোনালদোর ২০ বছরের অপেক্ষা, এবার কি ভাঙবে বিশ্বকাপের গোলখরা? Logo খেলা নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থককে হত্যার অভিযোগ ব্রাজিল সমর্থকদের বিরুদ্ধে Logo ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠল আফগানিস্তান Logo দুপুরের মধ্যে ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমতে পারে ভ্যাপসা গরম Logo মিয়ানমার সীমান্তের বিস্ফোরণ নিয়ে আকর্ষণীয় তথ্য দিলেন বিজিবি অধিনায়ক Logo জন্মের পরই আইডি পাবে শিশু, এতেই মিলবে মৃত্যু পর্যন্ত সুবিধা

ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠল আফগানিস্তান

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি তুলে ধরা একটি প্রতীকী ছবি।

আফগানিস্তানে আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জুরম (Jurm) এলাকায় বুধবার ৫ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। ভূমিকম্পের কম্পন শুধু আফগানিস্তানেই নয়, আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২১৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থল অনেক গভীরে হওয়ায় ভূমিকম্পের কম্পন বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও ভূপৃষ্ঠে এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় সেসব অঞ্চলের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

ভূমিকম্পের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে ছুটে যেতে দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এর মাত্র কয়েক দিন আগেই আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে ৬ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই কম্পন আফগানিস্তানের পাশাপাশি পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, পেশোয়ার ও খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলেও অনুভূত হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং কয়েকটি ভবনে ফাটল দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি ভারতীয় (Indian Plate) ও ইউরেশীয় (Eurasian Plate) টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত। এই দুটি প্লেটের ক্রমাগত চাপ ও সঞ্চালনের ফলে হিন্দুকুশ পর্বতমালা এলাকায় প্রায়ই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। প্রতি বছরই এই অঞ্চলে অসংখ্য ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়, যার মধ্যে কিছু ভূমিকম্প বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষ করে আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং হিন্দুকুশ অঞ্চল ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখানকার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, দুর্বল অবকাঠামো এবং অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ভূমিকম্পের সময় প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। উদ্ধারকাজ পরিচালনাও এসব এলাকায় কঠিন হয়ে পড়ে।

২০২৩ সালে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। সেই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা আফগানিস্তানে দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত খোলা স্থানে চলে যাওয়া, লিফট ব্যবহার না করা এবং ভবনের ভেতরে থাকলে মজবুত টেবিল বা আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। পাশাপাশি ভূমিকম্প-পরবর্তী আফটারশকের সম্ভাবনাও মাথায় রেখে সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানি বা অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের খবর না মিললেও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল

ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠল আফগানিস্তান

Update Time : ১০:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

আফগানিস্তানে আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জুরম (Jurm) এলাকায় বুধবার ৫ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। ভূমিকম্পের কম্পন শুধু আফগানিস্তানেই নয়, আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২১৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থল অনেক গভীরে হওয়ায় ভূমিকম্পের কম্পন বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও ভূপৃষ্ঠে এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় সেসব অঞ্চলের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুন  ইরানে আইআরজিসির দুই সদস্য গুলিতে নিহত

ভূমিকম্পের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে ছুটে যেতে দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এর মাত্র কয়েক দিন আগেই আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে ৬ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই কম্পন আফগানিস্তানের পাশাপাশি পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, পেশোয়ার ও খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলেও অনুভূত হয়। ওই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং কয়েকটি ভবনে ফাটল দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি ভারতীয় (Indian Plate) ও ইউরেশীয় (Eurasian Plate) টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত। এই দুটি প্লেটের ক্রমাগত চাপ ও সঞ্চালনের ফলে হিন্দুকুশ পর্বতমালা এলাকায় প্রায়ই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। প্রতি বছরই এই অঞ্চলে অসংখ্য ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়, যার মধ্যে কিছু ভূমিকম্প বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন  আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি: আড়াই শতাধিক প্রাণহানির শঙ্কা

বিশেষ করে আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং হিন্দুকুশ অঞ্চল ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখানকার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, দুর্বল অবকাঠামো এবং অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ভূমিকম্পের সময় প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। উদ্ধারকাজ পরিচালনাও এসব এলাকায় কঠিন হয়ে পড়ে।

২০২৩ সালে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। সেই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা আফগানিস্তানে দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে।

আরও পড়ুন  ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল বুর্কিনা ফাসো

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত খোলা স্থানে চলে যাওয়া, লিফট ব্যবহার না করা এবং ভবনের ভেতরে থাকলে মজবুত টেবিল বা আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। পাশাপাশি ভূমিকম্প-পরবর্তী আফটারশকের সম্ভাবনাও মাথায় রেখে সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানি বা অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের খবর না মিললেও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।