ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র হামলায় দেশটির ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী বা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে পাভেহ (Paveh) শহরে, যা ইরাকি কুর্দিস্তান বা Iraqi Kurdistan সীমান্তের কাছে অবস্থিত। বন্দুকধারীরা আইআরজিসি সদস্যদের বাড়ির সামনে গুলি চালায়, এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে “সন্ত্রাসী হামলা” হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন স্বীকার করেনি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
ইরান অতীতেও এ অঞ্চলে সংঘটিত অনুরূপ হামলার জন্য সীমান্তবর্তী কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে, যদিও বর্তমান ঘটনার ক্ষেত্রে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি।
এ ঘটনায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো:
- হামলায় নিহত দুই আইআরজিসি সদস্যের নাম প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা IRNA। তারা হলেন মেহদি শামস (Mehdi Shams) এবং মোহাম্মদ রেজা নাজারি (Mohammad Reza Nazari)। তারা আইআরজিসির স্থানীয় ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
- হামলাটি মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে পশ্চিম ইরানের কেরমানশাহ (Kermanshah) প্রদেশের পাভেহ (Paveh) শহরে ঘটে। এলাকাটি ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত।
- ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে এসে আইআরজিসি সদস্যদের লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয়।
- আহত দুই সদস্যকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে এবং একজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
- ঘটনার পর আইআরজিসি এবং ইরানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করেছে। সম্ভাব্য হামলাকারীদের ধরতে বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
- এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন হামলার দায় স্বীকার না করলেও ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, এটি “সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত হামলা” হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি।
- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেরমানশাহ, পশ্চিম আজারবাইজান এবং কুর্দিস্তান প্রদেশে আইআরজিসি সদস্যদের ওপর বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান এসব হামলার জন্য প্রায়ই সীমান্তের ওপারে অবস্থানরত কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে। অন্যদিকে এসব গোষ্ঠী অনেক ক্ষেত্রে দায় অস্বীকার করেছে।
- বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের মধ্যেই এই হামলা ঘটায় ঘটনাটি ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে হামলার সঙ্গে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।



























