ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি নিয়ে যে আশার সৃষ্টি হয়েছিল, তা আবারও বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবাননকে ঘিরে একটি নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র একদিন পরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালানোর পর ইরান সরাসরি নিজের ভূখণ্ড থেকে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীও ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। ফলে সংঘাতের পরিধি শুধু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা সতর্কতাও জোরদার করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে ‘গুলি চালানো’ বন্ধের কথা বললেও তার এই আহ্বান উপেক্ষা করেই সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তেহরান, তাবরিজ, কারাজ ও ইসফাহানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর পর ইরানও দ্বিতীয় দফায় পাল্টা আঘাত হানে। দুই দেশের এই সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, লেবাননে হামলা হলে তা সামগ্রিক যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে নাকি নতুন সংঘাতে অঞ্চল জড়িয়ে পড়বে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।




























