ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাতারের উপহারের বিমান নয়, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফিরলেন ট্রাম্প

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৩

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

এয়ার ফোর্স ওয়ান নিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিদেশ সফর। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন প্রেসিডেন্টের বিমান ব্যবহার না করে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহারের পরামর্শ দেয় মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস।

জানা গেছে, নতুন বিমানটি দ্রুত প্রস্তুত করে প্রেসিডেন্টের ভ্রমণে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এতে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি সংযোজন করা হয়নি। চলমান ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা, নিরাপদ সামরিক যোগাযোগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টকে আকাশ থেকেই নির্দেশনা দেওয়ার মতো একাধিক সক্ষমতা এতে যুক্ত আছে। নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে এসব ব্যবস্থার সবগুলো সংযোজন সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, নতুন বিমানটিও অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। বরং পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবেই কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের দেওয়া বিলাসবহুল এই উড়োজাহাজটি শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। বিরোধীরা বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন মূল্যবান উপহার গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পাশাপাশি এত অল্প সময়ে একটি সাধারণ ভিআইপি বিমানকে পূর্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টের বিমান হিসেবে রূপান্তর করা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, প্রেসিডেন্টের প্রতিটি সফরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ভ্রমণ পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। ফলে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান নিয়ে বিতর্ক চললেও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের উপহারের বিমান নয়, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফিরলেন ট্রাম্প

Update Time : ১২:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

এয়ার ফোর্স ওয়ান নিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিদেশ সফর। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন প্রেসিডেন্টের বিমান ব্যবহার না করে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহারের পরামর্শ দেয় মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস।

জানা গেছে, নতুন বিমানটি দ্রুত প্রস্তুত করে প্রেসিডেন্টের ভ্রমণে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এতে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি সংযোজন করা হয়নি। চলমান ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

আরও পড়ুন  তীব্র বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা, নিরাপদ সামরিক যোগাযোগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টকে আকাশ থেকেই নির্দেশনা দেওয়ার মতো একাধিক সক্ষমতা এতে যুক্ত আছে। নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে এসব ব্যবস্থার সবগুলো সংযোজন সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন  ২৫০ বছরে কেন এত বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র? ট্রাম্প কি মূল কারণ?

অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, নতুন বিমানটিও অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। বরং পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবেই কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের দেওয়া বিলাসবহুল এই উড়োজাহাজটি শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। বিরোধীরা বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন মূল্যবান উপহার গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পাশাপাশি এত অল্প সময়ে একটি সাধারণ ভিআইপি বিমানকে পূর্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টের বিমান হিসেবে রূপান্তর করা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরান মুদ্রাস্ফীতি: ভয়াবহ সংকটে সাধারণ মানুষের জীবন

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, প্রেসিডেন্টের প্রতিটি সফরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ভ্রমণ পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। ফলে নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান নিয়ে বিতর্ক চললেও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।