ঢাকা ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তরের চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা, বাড়ছে নদ-নদীর পানি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:৩৪:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ৫০৩

চিত্রঃ উত্তরের চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। (সংগৃহীত)

উত্তরের চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। চলমান ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারত থেকে নেমে আসা পানির ঢলের কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

রোববার প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের প্রধান নদীগুলোর পানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিনদিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নদীতীরবর্তী জনপদ সাময়িকভাবে পানির নিচে চলে যেতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের অধিকাংশ প্রধান নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া, রংপুরের কাউনিয়া এবং গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। একইভাবে সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি দ্রুত বাড়ছে।

 

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে রংপুর ও সিলেট বিভাগেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ভারতের মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ ও অরুণাচল অঞ্চলেও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের নদীগুলোতে পড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিনদিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ সংলগ্ন উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরবর্তী দুইদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের চার জেলার পাশাপাশি সিলেট ও সুনামগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেলেও যমুনা নদীর পানি প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী পাঁচদিন নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। তবে আপাতত তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুইদিন পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর কয়েকদিন পানি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বর্তমানে এই নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচেই রয়েছে।

 

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতলও দ্রুত বাড়ছে। আগামী তিনদিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

 

কুড়িগ্রামে বাড়ছে উদ্বেগ

কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধরলা নদীর পানি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ কেউ ঘরবাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও উঁচু স্থানে রাখতে শুরু করেছেন।

 

চিলমারী এলাকার বাসিন্দা হালিমা খাতুন বলেন, নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে তারা আগাম প্রস্তুতি নিতে বাধ্য হন। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে তারা জানেন, হঠাৎ করেই পানি বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চল ডুবে যেতে পারে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও উজানের পানির ঢলের কারণে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

সুনামগঞ্জে দ্রুত বাড়ছে নদীর পানি

টানা বর্ষণ ও ভারতীয় উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। অনেক স্থানে বসতবাড়ি, বাজার ও সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। কিছু হাওর এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করছে।

 

সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয় মানুষ ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা, বৌলাই, যাদুকাটা ও রক্তি নদীর পানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু সুরমা নদীর পানিই গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।

 

পানির নিচে সাদাপাথর পর্যটন এলাকা

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় সাদাপাথর পর্যটন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রশাসন সাময়িকভাবে পর্যটন কেন্দ্রটি বন্ধ ঘোষণা করেছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ২১ জুন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাদাপাথরে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের কারণে পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, পানি উন্নয়ন বোর্ড, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় প্রতিনিধিদের তথ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরের চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা, বাড়ছে নদ-নদীর পানি

Update Time : ০৫:৩৪:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

উত্তরের চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। চলমান ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারত থেকে নেমে আসা পানির ঢলের কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

রোববার প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের প্রধান নদীগুলোর পানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিনদিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নদীতীরবর্তী জনপদ সাময়িকভাবে পানির নিচে চলে যেতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের অধিকাংশ প্রধান নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া, রংপুরের কাউনিয়া এবং গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। একইভাবে সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি দ্রুত বাড়ছে।

 

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে রংপুর ও সিলেট বিভাগেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ভারতের মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ ও অরুণাচল অঞ্চলেও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের নদীগুলোতে পড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিনদিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ সংলগ্ন উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরবর্তী দুইদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের চার জেলার পাশাপাশি সিলেট ও সুনামগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন  বিশ্ব মা দিবস আজ, মায়ের ভালোবাসায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন

 

এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেলেও যমুনা নদীর পানি প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী পাঁচদিন নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। তবে আপাতত তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুইদিন পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর কয়েকদিন পানি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বর্তমানে এই নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচেই রয়েছে।

 

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতলও দ্রুত বাড়ছে। আগামী তিনদিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

 

কুড়িগ্রামে বাড়ছে উদ্বেগ

কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধরলা নদীর পানি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ কেউ ঘরবাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও উঁচু স্থানে রাখতে শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন  রাজশাহীতে হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ

 

চিলমারী এলাকার বাসিন্দা হালিমা খাতুন বলেন, নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে তারা আগাম প্রস্তুতি নিতে বাধ্য হন। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে তারা জানেন, হঠাৎ করেই পানি বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চল ডুবে যেতে পারে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও উজানের পানির ঢলের কারণে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

সুনামগঞ্জে দ্রুত বাড়ছে নদীর পানি

টানা বর্ষণ ও ভারতীয় উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। অনেক স্থানে বসতবাড়ি, বাজার ও সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। কিছু হাওর এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করছে।

 

সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয় মানুষ ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা, বৌলাই, যাদুকাটা ও রক্তি নদীর পানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু সুরমা নদীর পানিই গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।

আরও পড়ুন  মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫: তারকাখচিত আয়োজন

 

পানির নিচে সাদাপাথর পর্যটন এলাকা

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় সাদাপাথর পর্যটন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রশাসন সাময়িকভাবে পর্যটন কেন্দ্রটি বন্ধ ঘোষণা করেছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ২১ জুন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাদাপাথরে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের কারণে পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, পানি উন্নয়ন বোর্ড, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় প্রতিনিধিদের তথ্য।