অনলাইনে টিকিট ও নির্ধারিত টাইম-স্লট বুকিংয়ের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। জাদুঘর পরিদর্শনে আগ্রহীদের আগে অনলাইনে নিবন্ধন, পছন্দের সময়ের স্লট বুকিং এবং টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। অতিরিক্ত ভিড় এড়ানো ও দর্শনার্থীদের চলাচল সুশৃঙ্খল রাখতে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শনে দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরাসরি গিয়ে টিকিট নেওয়ার পরিবর্তে অনলাইনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এতে দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ে জাদুঘরে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।
জাদুঘরে প্রবেশের আগে দর্শনার্থীদের ‘জুলাই ৩৬’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর সুবিধাজনক একটি টাইম-স্লট নির্বাচন করে বুকিং দিতে হবে। এরপর অনলাইনেই প্রবেশের টিকিট কেনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
টিকিটের মূল্যও নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। জাদুঘর পরিদর্শনের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীদের ৫০ টাকা করে দিতে হবে। শিশুদের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা। অনলাইন নিবন্ধন ও টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই নির্ধারিত সময়ে জাদুঘরে প্রবেশ করতে হবে।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে টাইম-স্লট ভিত্তিক প্রবেশ ব্যবস্থা চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জাদুঘর প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল নিশ্চিত করাও এই ব্যবস্থার লক্ষ্য। নির্ধারিত সময়ে সীমিত সংখ্যক দর্শনার্থী প্রবেশ করায় জাদুঘর পরিদর্শন আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাদুঘরটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখানে দর্শনার্থীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্মৃতি ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। ফলে জাদুঘরটি ইতিহাস ও স্মৃতিচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
এর আগে ৫ আগস্ট সকাল ৯টায় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐতিহাসিক এই জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘর উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার থেকে দর্শনার্থীরা অনলাইনে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। এজন্য আগ্রহীদের আগে থেকেই নিবন্ধন ও টাইম-স্লট বুকিং সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে দর্শনার্থীরা কোনো ধরনের অতিরিক্ত ভোগান্তি ছাড়াই জাদুঘরটি ঘুরে দেখতে পারবেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে স্থাপিত এই জাদুঘর দেখতে দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনলাইন টিকিট ও স্লট বুকিংয়ের মাধ্যমে প্রবেশের ব্যবস্থা চালু হওয়ায় জাদুঘর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের চাপও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এখন থেকে নির্ধারিত নিয়ম মেনেই জাদুঘরটি পরিদর্শন করতে হবে।



























