ডেঙ্গু জ্বরের তাণ্ডব সারা দেশে নতুন করে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের পাঠানো নিয়মিত বুলেটিন থেকে আজ এই বিপৎসংকুল তথ্যটি নিশ্চিত করা গেছে। এডিস মশাবাহিত এই রোগটির প্রকোপ হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর পুনরায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নারী ও পুরুষ, যারা বর্তমানে জীবনযুদ্ধে লড়ছেন।
আজ রোববার ১৪ জুন দুপুরের দিকে রাজধানী ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে এই বিশেষ ডেঙ্গু বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। সারা দেশের সব প্রধান সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য সংগ্রহ করে এই দৈনিক পরিসংখ্যানটি তৈরি করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। বিশেষ করে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের পরিস্থিতি এই নির্দিষ্ট সময়ে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে বলে প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৭ জন এবং খুলনা বিভাগে ৩৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৫ জন, ঢাকা বিভাগে ১৪ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ১১ জন আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ জন, সিলেট বিভাগে ৩ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটিতে ২ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তবে আশার কথা হলো, এই একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে মোট ১২৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ২০১ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তদের লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, মোট রোগীর মধ্যে ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ নারী রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের চিকিৎসা সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং মশক নিধনে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিগত ২০২৫ সালে সারা দেশে রেকর্ড ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ৪১৩ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন。 তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫৭৫ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সফলভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে মোট ৩ হাজার ৯৬৭ জন মানুষ বাড়ি ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
বর্তমানে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্তদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। এ বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মোট ৬ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে, যা জনমনে বাড়তি সতর্কতা তৈরির জন্য যথেষ্ট。 চিকিৎসকেরা বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বর হলে অবহেলা না করে অবিলম্বে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার এবং মশারি ব্যবহারের জন্য সাধারণ নাগরিকদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।


























