ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কাজিপুরে আফজাল হোসেন স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত Logo গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল গাজীপুর Logo উত্তরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা Logo ইউপি নির্বাচনের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত, হুমকি দিলে শাস্তি Logo আসিয়ান কাপের প্রতিপক্ষ নিয়ে হামজা বললেন, ‘কাউকে ভয় পেতে আসিনি’ Logo নার্সিং কর্মীদের পদোন্নতির প্রস্তুতি শুরু, কাগজ জমার শেষ সময় জানাল অধিদপ্তর Logo বখাটের হামলায় দাঁত ভেঙে হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে স্কুলছাত্রী Logo ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আনচেলত্তির বড় বার্তা Logo হোয়াটসঅ্যাপে আসছে এআই এজেন্ট, করা যাবে যেসব কাজ Logo ব্যালন ডি’অর জিতলে আফ্রিকাকে কেন উৎসর্গ করবেন এমবাপ্পে?

ইউপি নির্বাচনের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত, হুমকি দিলে শাস্তি

ইউপি নির্বাচন ২০২৬

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে। মোট প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সংশোধিত বিধিমালায় স্বাক্ষর করেন। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনি হলফনামাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

হলফনামায় চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নিজের ও নির্ভরশীলদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদের হিসাব দিতে হবে। এর সঙ্গে আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্র ও টিআইএন নম্বর জমা দিতে হবে। প্রার্থীকে তিনি ফেরারি আসামি কি না, সেটিও ঘোষণা করতে হবে। সদস্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে হলফনামা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সদস্য প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। আগে এ সীমা চেয়ারম্যানের জন্য ৫ লাখ এবং সদস্যের জন্য ১ লাখ টাকা ছিল। ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে তা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য তফসিলি ব্যাংকে আলাদা হিসাব খুলতে হবে। নির্বাচনি ব্যয়ের সব অর্থ ওই হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। নির্বাচন-পূর্ব প্রচারণার ক্ষেত্রেও ২০২৬ সালের নির্বাচনি আচরণবিধি অনুসরণ করতে হবে। আচরণবিধির বাইরে কোনো প্রচারণায় অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

জামানত বাজেয়াপ্তের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেলে জামানত ফেরত পাবেন। এর কম ভোট পেলে জামানত সরকারি কোষাগারে জমা হবে। আগে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করার বিধান ছিল।

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও ইসির ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এছাড়া নির্বাচনি কর্মকর্তা, অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী বা পর্যবেক্ষককে হুমকি, ভয়ভীতি বা বলপ্রয়োগ করে বাধা দিলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া থেকে বিরত রাখা বা মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম হলে ফল স্থগিত ও প্রয়োজনে পুনঃভোটের নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন।

দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান সর্বোচ্চ ভোট পেলে এবার আর লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে না। সমান ভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ভোটারদের সহায়তায় কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন সহায়তাকারী নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিধানও বাতিল করা হয়েছে। ইউপি নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২টি এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য ১০টি, মোট ৪২টি প্রতীক রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাজিপুরে আফজাল হোসেন স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

ইউপি নির্বাচনের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত, হুমকি দিলে শাস্তি

Update Time : ০৯:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে। মোট প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সংশোধিত বিধিমালায় স্বাক্ষর করেন। নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনি হলফনামাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

হলফনামায় চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নিজের ও নির্ভরশীলদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদের হিসাব দিতে হবে। এর সঙ্গে আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্র ও টিআইএন নম্বর জমা দিতে হবে। প্রার্থীকে তিনি ফেরারি আসামি কি না, সেটিও ঘোষণা করতে হবে। সদস্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে হলফনামা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

আরও পড়ুন  স্থানীয় নির্বাচন কবে, ২০২৭-এর শুরুতেই কি ভোট?

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সদস্য প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। আগে এ সীমা চেয়ারম্যানের জন্য ৫ লাখ এবং সদস্যের জন্য ১ লাখ টাকা ছিল। ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে তা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য তফসিলি ব্যাংকে আলাদা হিসাব খুলতে হবে। নির্বাচনি ব্যয়ের সব অর্থ ওই হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। নির্বাচন-পূর্ব প্রচারণার ক্ষেত্রেও ২০২৬ সালের নির্বাচনি আচরণবিধি অনুসরণ করতে হবে। আচরণবিধির বাইরে কোনো প্রচারণায় অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

আরও পড়ুন  রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

জামানত বাজেয়াপ্তের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেলে জামানত ফেরত পাবেন। এর কম ভোট পেলে জামানত সরকারি কোষাগারে জমা হবে। আগে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করার বিধান ছিল।

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও ইসির ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এছাড়া নির্বাচনি কর্মকর্তা, অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী বা পর্যবেক্ষককে হুমকি, ভয়ভীতি বা বলপ্রয়োগ করে বাধা দিলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া থেকে বিরত রাখা বা মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম হলে ফল স্থগিত ও প্রয়োজনে পুনঃভোটের নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন।

আরও পড়ুন  নুসরাত তাবাসসুম শপথ গ্রহণ | সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হিসেবে শপথ

দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান সর্বোচ্চ ভোট পেলে এবার আর লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে না। সমান ভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ভোটারদের সহায়তায় কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন সহায়তাকারী নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিধানও বাতিল করা হয়েছে। ইউপি নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২টি এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য ১০টি, মোট ৪২টি প্রতীক রাখা হয়েছে।