বরগুনার বেতাগীতে বখাটের হামলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ওপরের পাটির সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশুটি। মাঝেমধ্যে ভয়ে চিৎকার দিয়েও উঠছে সে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার সময় ওই ছাত্রীর ওপর হামলা চালান মো. ফয়সাল নামে এক যুবক। চড় ও লাথির আঘাতে তার সামনের তিনটি দাঁত ভেঙে যায়।
হামলার পর স্থানীয়রা আহত ছাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার পাশে থেকে দেখাশোনা করছেন মা। মেয়ের কষ্ট দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
আহত ছাত্রীর মা বলেন, মেয়েটি প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। মা হিসেবে মেয়ের এই অবস্থা দেখা তার জন্য খুবই কষ্টের। হামলাকারীর কারণে মেয়েকে যে কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তার উপযুক্ত বিচার চান তিনি।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহমুদ মুর্শিদ বলেন, ছাত্রীর ওপরের সামনের তিনটি দাঁত পড়ে গেছে। ওই স্থানে সংক্রমণও রয়েছে। ক্ষত শুকানোর পর দাঁতের চিকিৎসা শুরু করা হবে। কীভাবে দাঁতগুলো পুনঃস্থাপন করা যায়, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসক আরও জানান, বর্তমানে ওই ছাত্রী শঙ্কামুক্ত। তবে সম্পূর্ণ চিকিৎসার জন্য তাকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। দাঁতের চিকিৎসার পাশাপাশি আঘাতের স্থানও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে স্কুলের ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় ফয়সাল সেখানে উঁকি দেন। বিষয়টি ওই ছাত্রী টের পেয়ে পরিবারের সদস্যদের জানায়। ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফয়সাল তাকে মারধরের হুমকি দেন।
ভয়ে সোমবার মেয়েটিকে স্কুলে পাঠাননি তার মা। পরে বাড়িতে গিয়ে এক শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। বিকেলে বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফয়সাল তার ওপর হামলা চালান।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে আহত ছাত্রীর মা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে বেতাগী থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের বয়স ২৩ বছর। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাঁর বাড়ি বিদ্যালয়ের পাশের গাবতলী গ্রামে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফয়সালের মা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, মামলার ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি ফয়সালকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।




























