মালির মধ্যাঞ্চলের ডিওরা শহরে জঙ্গিদের হামলায় শতাধিক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। ১০ সেপ্টেম্বরের ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রয়টার্সকে একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হামলায় প্রায় ১৩০ সেনা নিহত এবং শতাধিক সেনা জিম্মি হয়েছেন। অন্যদিকে, একটি কূটনৈতিক সূত্র নিহতের সংখ্যা প্রায় ১২০ বলে জানিয়েছে।
হামলাটি চালায় আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম)। ডিওরার সামরিক ক্যাম্পে হামলার পর সেখানে অবস্থানরত সেনাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে অভিযান চালায় মালির সেনাবাহিনী।
মালির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় জঙ্গিদের বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালানো হয়। তবে অভিযানে নিজেদেরও কিছু সেনা সদস্য নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তারা প্রকাশ করেনি।
এদিকে জেএনআইএম হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে, তারা ডিওরায় ১৫০ মালিয়ান সেনাকে হত্যা এবং ৯৩ জনকে আটক করেছে। তবে জঙ্গি গোষ্ঠীটির দেওয়া এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ডিওরার হামলার পাশাপাশি মধ্য মালির সেভারে শহরের বিমানবন্দরেও সাম্প্রতিক সময়ে হামলা চালিয়েছে জেএনআইএম। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে টানা কয়েক রাত গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। জেএনআইএম দাবি করেছে, সেভারে ও কোনায় হামলায় ৩৩ জন সরকারি বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গত এপ্রিলেও জেএনআইএম এবং তুয়ারেগ নেতৃত্বাধীন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এফএলএ মালিজুড়ে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছিল। ওই সময় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হন এবং দেশটির প্রধান বিমানবন্দরেও হামলা হয়।
২০২০ ও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মালির সামরিক সরকার দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডিওরার ঘটনায় মালির সেনাবাহিনী এখনো চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। নিখোঁজ ও জিম্মি সেনাদের সন্ধান এবং তাদের উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।



























