ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসায় কঠোর সাজা: ১৫ দিনের জেল, ৫০ হাজার জরিমানা

লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসার দায়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসককে কারাদণ্ড।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর এলাকায় লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত এ অভিযানে মো. মনোয়ারুল ইসলাম (৪২) নামে ওই ব্যক্তিকে ১৫ দিনের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অন্য চিকিৎসকের নাম-প্যাড ব্যবহার করে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় প্রশাসনের এই অভিযান এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়টিকেই অভিযানের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উপজেলার রানীরবন্দর এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ আফরোজ। অভিযানের সময় চিকিৎসা কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। প্রশাসনের তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তির চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ লাইসেন্স পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। ফলে লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত মনোয়ারুল ইসলাম খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ি গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধতার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনাটি তা আবারও সামনে এনেছে।

অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায়, মনোয়ারুল ইসলাম অন্য একজন চিকিৎসকের নাম ও প্যাড ব্যবহার করে রোগীদের জন্য প্রেসক্রিপশন লিখতেন। এতে রোগীরা প্রকৃত চিকিৎসকের পরিচয় সম্পর্কে বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন তার দেওয়া চিকিৎসা নিয়ে এক রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি যাচাই করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে তার চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। পরে প্রশাসনের অভিযানে অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানে মো. মনোয়ারুল ইসলামকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—চিকিৎসার মতো সংবেদনশীল সেবায় অনুমোদন, যোগ্যতা ও পরিচয়ের স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসা শুধু নিয়মের ব্যত্যয় নয়, রোগীর নিরাপত্তা ও আস্থার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই চিকিৎসা নিতে গিয়ে কাউকে শুধু পরিচিতি বা স্থানীয় জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে বিশ্বাস না করে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা জরুরি। চিরিরবন্দরের এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনস্বার্থে অনুমোদনহীন চিকিৎসাসেবা বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসায় কঠোর সাজা: ১৫ দিনের জেল, ৫০ হাজার জরিমানা

Update Time : ০৮:৪৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর এলাকায় লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত এ অভিযানে মো. মনোয়ারুল ইসলাম (৪২) নামে ওই ব্যক্তিকে ১৫ দিনের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অন্য চিকিৎসকের নাম-প্যাড ব্যবহার করে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় প্রশাসনের এই অভিযান এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়টিকেই অভিযানের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  দিনাজপুরে অগ্নিকাণ্ডে দম্পতি মৃত্যু: শোকের ছায়া এলাকায়।

উপজেলার রানীরবন্দর এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ আফরোজ। অভিযানের সময় চিকিৎসা কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। প্রশাসনের তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তির চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ লাইসেন্স পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। ফলে লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত মনোয়ারুল ইসলাম খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ি গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধতার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনাটি তা আবারও সামনে এনেছে।

অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায়, মনোয়ারুল ইসলাম অন্য একজন চিকিৎসকের নাম ও প্যাড ব্যবহার করে রোগীদের জন্য প্রেসক্রিপশন লিখতেন। এতে রোগীরা প্রকৃত চিকিৎসকের পরিচয় সম্পর্কে বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন তার দেওয়া চিকিৎসা নিয়ে এক রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি যাচাই করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে তার চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। পরে প্রশাসনের অভিযানে অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, অভিযানে ধরা পড়লেন ব্যবসায়ী

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানে মো. মনোয়ারুল ইসলামকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—চিকিৎসার মতো সংবেদনশীল সেবায় অনুমোদন, যোগ্যতা ও পরিচয়ের স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসা শুধু নিয়মের ব্যত্যয় নয়, রোগীর নিরাপত্তা ও আস্থার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই চিকিৎসা নিতে গিয়ে কাউকে শুধু পরিচিতি বা স্থানীয় জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে বিশ্বাস না করে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা জরুরি। চিরিরবন্দরের এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জনস্বার্থে অনুমোদনহীন চিকিৎসাসেবা বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  ফেসবুক বিভ্রাট: ধীরে ধীরে ফিরছে সেবা