ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইমরান খান নিয়ে আশরাফুলের বিস্ফোরক মন্তব্য Logo আমরা বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি : কাভান সুলিভান Logo বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে বাংলাদেশ, দিল ১০ লাখ ডলার Logo ১০০ কিলোমিটার দৌড়ে বোলিং, অবিশ্বাস্য কীর্তি স্যামের Logo পুরোনো মালিকানায় ফেরার সুযোগ বন্ধে ব্যাংক আইন সংশোধনের প্রস্তাব Logo ‘হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব’, হাসপাতালের বাথরুম দেখে কৃষিমন্ত্রী Logo এআইইউবি প্রতিষ্ঠাতা ডা. আনোয়ারুল আবেদীনের মৃত্যুবার্ষিকী ৫ সেপ্টেম্বর Logo মার্কিন অস্ত্রের মজুদ নিয়ে সতর্ক করলেন ট্রাম্প Logo সাইবার বুলিংয়ের মামলায় কথিত সাংবাদিক মাসুদ রানা গ্রেপ্তার Logo লৌহজংয়ে ৭০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মার্কিন অস্ত্রের মজুদ নিয়ে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

মার্কিন অস্ত্রের মজুদ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘শতভাগ ভুল’ ও ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে এখনো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন করে অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন অস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সামরিক অভিযানে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর, থাড এবং অন্যান্য দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্রের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনীর অস্ত্র ব্যবহারের কারণে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ ও এশিয়ায় মিত্রদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্র সরবরাহে বিলম্বের আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।

তবে এসব দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, মার্কিন অস্ত্রের মজুদ শেষের দিকে চলে যাওয়ার খবর ‘১০০ শতাংশ ভুল’। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘প্রায় সীমাহীন’ পরিমাণে মাঝারি ও উচ্চমানের গোলাবারুদ রয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিহাসের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি উৎপাদন কেন্দ্র ও কারখানা নির্মাণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্র তৈরি করে দ্রুত সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

অস্ত্রের মজুদ নিয়ে তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুদ নিয়ে তথ্য প্রকাশ করছেন, তাদের খুঁজে বের করা হবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

অস্ত্রের মজুদ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে ট্রাম্পের মতবিরোধের খবর প্রকাশিত হয়। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প অস্ত্রের মজুদ নিয়ে হেগসেথের কাছে ব্যাখ্যা চান। প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

তবে হোয়াইট হাউস এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে ট্রাম্প ও হেগসেথের মধ্যে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

লেভিট প্রতিবেদনটিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাম্পের হেগসেথের ওপর আস্থা রয়েছে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার দায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করছেন।

অন্যদিকে, মার্কিন অস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের প্রথম মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এক হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। একই সময়ে ১ হাজার ৩০০টির বেশি আর্মি ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের অস্ত্র পুনরায় উৎপাদন করে মজুদ পূরণ করতে সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ঘাটতি পূরণ করা কঠিন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের ঘাটতি এখন ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে কয়েকটি মিত্র দেশের কাছে অস্ত্র সরবরাহ কয়েক মাস পিছিয়ে যেতে পারে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জাপানসহ এশিয়ার কয়েকটি মিত্র দেশের অস্ত্র সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতি এবং একই সঙ্গে মিত্রদের অস্ত্র সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে।

৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার অর্থ ফেরত চাওয়ার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেদের অস্ত্রের মজুদকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং মিত্রদের কাছে অস্ত্র বিক্রি বা সরবরাহ সাময়িকভাবে সীমিত করা হলেও ভবিষ্যতে তা আবার শুরু হতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর অস্ত্র, অর্থ ও সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি সংকটে পড়ে গেছে—এমন দাবি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। একদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট সূত্র মজুদ কমে যাওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে এবং উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে।

ফলে মার্কিন অস্ত্রের প্রকৃত মজুদের পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি, মিত্রদের অস্ত্র সরবরাহ এবং নতুন অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা কতটা ধরে রাখতে পারে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমরান খান নিয়ে আশরাফুলের বিস্ফোরক মন্তব্য

মার্কিন অস্ত্রের মজুদ নিয়ে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

Update Time : ০৯:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘শতভাগ ভুল’ ও ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে এখনো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন করে অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন অস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সামরিক অভিযানে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর, থাড এবং অন্যান্য দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্রের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনীর অস্ত্র ব্যবহারের কারণে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ ও এশিয়ায় মিত্রদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্র সরবরাহে বিলম্বের আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।

তবে এসব দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, মার্কিন অস্ত্রের মজুদ শেষের দিকে চলে যাওয়ার খবর ‘১০০ শতাংশ ভুল’। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘প্রায় সীমাহীন’ পরিমাণে মাঝারি ও উচ্চমানের গোলাবারুদ রয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিহাসের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি উৎপাদন কেন্দ্র ও কারখানা নির্মাণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্র তৈরি করে দ্রুত সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন  মুম্বাই হামলায় হাফিজ সাইদসহ ৬ সন্ত্রাসীর বিচার শুরু

অস্ত্রের মজুদ নিয়ে তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুদ নিয়ে তথ্য প্রকাশ করছেন, তাদের খুঁজে বের করা হবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

অস্ত্রের মজুদ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে ট্রাম্পের মতবিরোধের খবর প্রকাশিত হয়। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প অস্ত্রের মজুদ নিয়ে হেগসেথের কাছে ব্যাখ্যা চান। প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

তবে হোয়াইট হাউস এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে ট্রাম্প ও হেগসেথের মধ্যে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

লেভিট প্রতিবেদনটিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাম্পের হেগসেথের ওপর আস্থা রয়েছে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার দায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করছেন।

অন্যদিকে, মার্কিন অস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের প্রথম মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এক হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। একই সময়ে ১ হাজার ৩০০টির বেশি আর্মি ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল ইসরায়েল, যা বললেন নেতানিয়াহু

এ ধরনের অস্ত্র পুনরায় উৎপাদন করে মজুদ পূরণ করতে সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ঘাটতি পূরণ করা কঠিন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের ঘাটতি এখন ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে কয়েকটি মিত্র দেশের কাছে অস্ত্র সরবরাহ কয়েক মাস পিছিয়ে যেতে পারে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জাপানসহ এশিয়ার কয়েকটি মিত্র দেশের অস্ত্র সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতি এবং একই সঙ্গে মিত্রদের অস্ত্র সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছে ইউজিসি

৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তার অর্থ ফেরত চাওয়ার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেদের অস্ত্রের মজুদকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং মিত্রদের কাছে অস্ত্র বিক্রি বা সরবরাহ সাময়িকভাবে সীমিত করা হলেও ভবিষ্যতে তা আবার শুরু হতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর অস্ত্র, অর্থ ও সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি সংকটে পড়ে গেছে—এমন দাবি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। একদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট সূত্র মজুদ কমে যাওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে এবং উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে।

ফলে মার্কিন অস্ত্রের প্রকৃত মজুদের পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি, মিত্রদের অস্ত্র সরবরাহ এবং নতুন অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা কতটা ধরে রাখতে পারে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।