ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপাল-তিব্বতে বন্যা: প্রাণহানি ছাড়াল হাজার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৫৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৮

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। | ছবি: সংগৃহীত

নেপাল-তিব্বতে বন্যায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এক সপ্তাহ পরও উদ্ধার অভিযান চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুই অঞ্চলে মিলিয়ে ১ হাজার ২৪৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নেপালেই ১ হাজার ২২২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বন্যার পানির সঙ্গে নেমে আসা কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে নেপালের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক শহর ও গ্রাম কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে। এখনো হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। ফলে উদ্ধারকর্মীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত আটটি জেলা থেকে নতুন করে মরদেহ উদ্ধারের পর দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ২২২ জনে পৌঁছেছে। ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় থাকা বিভিন্ন সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এসব স্থানে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা।

দুর্যোগের পর নেপাল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রায় ২১ হাজার ৩১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী স্থল ও আকাশপথে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুর্গম এলাকায় পৌঁছে নিখোঁজদের সন্ধান করতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

অন্যদিকে, নেপাল সীমান্তের কাছে চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতেও একই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে নেপাল-তিব্বতে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এই দুর্যোগের পেছনে হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশগত পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবেশবিদ সুনিতা নারায়ণ হিমালয়ে অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন, নদী ও পাহাড়ের স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, পরিবেশের ভারসাম্য উপেক্ষা করে অবকাঠামো নির্মাণ দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নেপাল-তিব্বতে বন্যার ভয়াবহতা এখন শুধু প্রাণহানির হিসাবেই সীমাবদ্ধ নেই। বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ, বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। বন্যার পানি ও কাদামাটি পুরোপুরি না সরানো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট নাও হতে পারে।

দুর্যোগের পরবর্তী সময়ে নিখোঁজদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার এবং দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপাল-তিব্বতে বন্যা: প্রাণহানি ছাড়াল হাজার

Update Time : ১২:৫৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপাল-তিব্বতে বন্যায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এক সপ্তাহ পরও উদ্ধার অভিযান চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুই অঞ্চলে মিলিয়ে ১ হাজার ২৪৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নেপালেই ১ হাজার ২২২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বন্যার পানির সঙ্গে নেমে আসা কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষে নেপালের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক শহর ও গ্রাম কাদামাটির নিচে চাপা পড়েছে। এখনো হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। ফলে উদ্ধারকর্মীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত আটটি জেলা থেকে নতুন করে মরদেহ উদ্ধারের পর দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ২২২ জনে পৌঁছেছে। ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় থাকা বিভিন্ন সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এসব স্থানে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা।

আরও পড়ুন  ৪০ দিন আমাজনের জঙ্গলে, চার শিশুর বেঁচে থাকার অবিশ্বাস্য গল্প

দুর্যোগের পর নেপাল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রায় ২১ হাজার ৩১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী স্থল ও আকাশপথে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুর্গম এলাকায় পৌঁছে নিখোঁজদের সন্ধান করতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প: ধ্বংসস্তূপ থেকে নবজাতক উদ্ধার

অন্যদিকে, নেপাল সীমান্তের কাছে চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতেও একই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে নেপাল-তিব্বতে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এই দুর্যোগের পেছনে হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশগত পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবেশবিদ সুনিতা নারায়ণ হিমালয়ে অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন, নদী ও পাহাড়ের স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, পরিবেশের ভারসাম্য উপেক্ষা করে অবকাঠামো নির্মাণ দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

আরও পড়ুন  ভূমিকম্পে সন্তানকে বাঁচাতে নিজে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মা

নেপাল-তিব্বতে বন্যার ভয়াবহতা এখন শুধু প্রাণহানির হিসাবেই সীমাবদ্ধ নেই। বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ, বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। বন্যার পানি ও কাদামাটি পুরোপুরি না সরানো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট নাও হতে পারে।

দুর্যোগের পরবর্তী সময়ে নিখোঁজদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার এবং দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।